আতাহার আলী মল্লিক

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালের ২ এপ্রিলের ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে রংপুর ইপিআর উইংয়ের বাঙালি ইপিআররা বিদ্রোহ করে। ইপিআরের বি কোম্পানি তিস্তা নদীর সেতুতে ব্যারিকেড দিয়ে অবস্থান নেয় কুড়িগ্রাম প্রান্তে। তাদের লক্ষ্য ছিল রংপুর সেনানিবাস থেকে অগ্রসরমাণ পাকিস্তানি সেনাদের বাধা দেওয়া। ১ এপ্রিল সেখানে প্রথম যুদ্ধ হয়। প্রতিরোধ-যোদ্ধাদের অবস্থানের আশপাশে বৃষ্টির মতো পড়তে থাকে পাকিস্তানি গোলা। প্রতিরোধ-যোদ্ধাদের একজন আতাহার আলী মল্লিক। তাঁরা ঘাপটি মেরে পড়ে ছিলেন। কোনো পাল্টা জবাব দিলেন না। পাল্টা জবাব না দেওয়ায় পাকিস্তানি সেনারা দ্রুত এগিয়ে আসতে থাকল। মুক্তিযোদ্ধারা এটাই চাইছিলেন। পাকিস্তানিরা পুরোপুরি আওতার মধ্যে এসে পড়লে তাঁদের অস্ত্রগুলো একসঙ্গে গর্জে উঠল; এর সঙ্গে গ্রেনেড ও মর্টার। গোলাগুলির অব্যর্থ আঘাতে নিহত হলো বেশ কজন পাকিস্তানি সেনা। তীব্র গোলাগুলি ও ঘটনার আকস্মিকতায় বাকি পাকিস্তানিরা পালিয়ে গেল। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বিজয়ের আনন্দে উৎফুল্ল তাঁরা। কিন্তু তা ছিল সাময়িক, কারণ আবার যেকোনো সময় পাকিস্তানিদের নতুন আক্রমণ শুরু হতে পারে। তাই তাঁরা চলে গেলেন নিজ নিজ অবস্থানে। পাকিস্তানিদের আর দেখা নেই। প্রতিরোধ যোদ্ধারা ভাবলেন, আজ হয়তো তারা আসবে না। কিন্তু তাঁদের এ ধারণা ছিল ভুল। সন্ধ্যাবেলায় আবার পাকিস্তানিদের আকস্মিক আক্রমণ। এবার তারা এল বিপুল শক্তি নিয়ে। অন্ধকারে শুরু হলো প্রচণ্ড যুদ্ধ। একটু পর পর জ্বলে উঠছে ট্রেসারের উজ্জ্বল আলো। সেই আলোয় পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে সব। এবার মুক্তিযোদ্ধারা কিছুটা কোণঠাসা। হঠাৎ পাকিস্তানি শেলের স্প্রিন্টারে আহত হলেন আতাহার আলী মল্লিক। আহত হলেন আরও অনেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি শহীদ হলেন। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের মধ্যে ক্রমশ হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছিল। এই অবস্থায় তাঁরা পিছু হটলেন। শহীদ সহযোদ্ধাদের লাশ তাঁরা নিতে পারলেন না। পাকিস্তানি সেনারা ওই এলাকা থেকে চলে যাওয়ার পর কয়েকজন তাঁদের লাশ খুঁজতে যান, কিন্তু লাশ পাননি। উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে https://bn.wikipedia.org/s/a856