আবদুল গফুর (মুক্তিযোদ্ধা)

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালে চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দক্ষিণপ্রান্তে ধোপাখালী বিওপি ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত একটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। মুক্তিবাহিনীর একটি দল ৮ আগস্ট এখানে আক্রমণ করে। এই দলে ছিলেন আবদুল গফুর। তিনি ইপিআরের সদস্য ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগ ইপিআর সদস্য। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেদিন দুপুরের পর মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমানের (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা ক্যাম্প থেকে রওনা হন। সন্ধ্যার আগে লক্ষ্যস্থলে পৌঁছে আক্রমণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গে পাকিস্তানিরাও পাল্টা আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধাদের এই আক্রমণের সংবাদ পাকিস্তানিরা তাদের বাঙালি দোসরদের মাধ্যমে আগেই পেয়ে যায়। তারা প্রস্তুতই ছিল এবং সুরক্ষিত বাংকারে অবস্থান নিয়ে আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে অনর্গল গোলাবর্ষণ করতে থাকে। এতে মুক্তিযোদ্ধাদের মাথা তোলাও দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশির ভাগের অস্ত্র বলতে পুরোনো থ্রি নট থ্রি রাইফেল এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর দেওয়া এসএলআর ও স্টেনগান। মাত্র কয়েকজনের কাছে উন্নত অস্ত্র। তাঁরা চরম প্রতিকূলতার মধ্যেই সাহস ও বীরত্বের সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকেন। কয়েকজন এই যুদ্ধে অসাধারণ বীরত্ব প্রদর্শন করেন। আবদুল গফুর জীবনের মায়া ত্যাগ করে গুলি করতে করতে পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থানের কাছাকাছি চলে যান। তাঁর চোখের সামনে শহীদ হন দুই সহযোদ্ধা। এতে তিনি দমে যাননি। মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে পাকিস্তানি আক্রমণ প্রতিহত করতে থাকেন। এমন সময় হঠাৎ গুলি এসে লাগে আবদুল গফুরের বুকে। রক্তে ভেসে যায় জায়গাটি। তখনই তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। ধোপাখালী ছিল মুক্তিবাহিনীর ৮ নম্বর সেক্টরের বানপুর সাবসেক্টরের অধীন এলাকা। এখানকার পাকিস্তানি প্রতিরক্ষা অবস্থানের কারণে মুক্তিবাহিনীর গণযোদ্ধারা সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে গেরিলা কার্যক্রম চালাতে পারছিলেন না। এ কারণে ওই এলাকায় মুক্তিবাহিনীর গেরিলা কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। পাকিস্তানি সেনাদের সেখান থেকে বিতাড়ন বা তাদের পরিধি সীমিত করার জন্য নিয়মিত মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানিদের আক্রমণের সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর আবদুল গফুর, রশিদ আলী (বীর প্রতীক), আবু বাকের, সিদ্দিক আলী ও আবদুল আজিজ শহীদ হন এবং চারজন গুরুতর আহত হন। মুক্তিযোদ্ধারা আবদুল গফুর, রশিদ আলীসহ চারজনের মরদেহ যুদ্ধস্থল থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। পরে তাঁদের সমাহিত করেন বাংলাদেশের মাটিতেই। ধোপাখালীর পার্শ্ববর্তী জীবননগরে তাঁদের সমাহিত করা হয়।