আবদুল মান্নান (মুক্তিযোদ্ধা)

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালের ৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত মদুনাঘাটে একটি অপারেশনে নেতৃত্বে ছিলেন আবদুল মান্নান। সাবস্টেশনের অবস্থান চট্টগ্রাম-কাপ্তাই সড়কের উত্তর পাশে এবং হালদা নদীর পশ্চিম পাশে। এখানে তখন তিনটি বড় ধরনের ট্রান্সফরমার ছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে ছিল পাকিস্তানি সেনা ও কিছু রাজাকার। সব মিলিয়ে ৩০-৩৫ জন। সাবস্টেশনের চারদিকে ছিল বাংকার। রাতে আবদুল মান্নানসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রওনা হন লক্ষ্যস্থলে। তাঁদের দলনেতা ছিলেন সুলতান মাহমুদ (বীর উত্তম)। রাতে অন্ধকার তেমন গাঢ় নয়। আবছা অন্ধকারে দূরের অনেক কিছু চোখে পড়ে। তাই সবাই সতর্ক। সবার আগে একজন পথপ্রদর্শক। তাঁর পেছনে দলনেতা ও আবদুল মান্নান। তাঁদের পেছনে সহযোদ্ধারা। সারিবদ্ধভাবে সবাই এগিয়ে যান। তাঁদের কাছে ভারী অস্ত্র মাত্র দুটি। একটি আরএল (রকেট লঞ্চার) ও একটি এলএমজি। অন্যান্য অস্ত্র এসএমজি, স্টেনগান ও রাইফেল। আর কয়েকটি হ্যান্ডগ্রেনেড। তাঁরা সেদিন মদুনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রে (সাবস্টেশন) আক্রমণ করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রাথমিক অবস্থান ছিল মদুনাঘাটের অদূরেই। এর আগে তাঁরা বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় রেকি করেন। নির্ধারিত দিন মধ্যরাতে তাঁরা কেন্দ্রের ৫০-৬০ গজ দূরে অবস্থান নেন। রাত যখন তিনটা, তখন তাঁরা আরএল দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়েকটি রকেট ছোড়েন। নির্ভুল নিশানায় সেগুলো আঘাত হানে। তিনটি ট্রান্সফরমারেই আগুন ধরে যায়। পাকিস্তানি সেনারা সজাগই ছিল। সঙ্গে সঙ্গে তারা আক্রমণ চালায়। চারদিকের বাংকার থেকে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের ওপর বৃষ্টির মতো গুলি শুরু করে। মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা আক্রমণ করেন। গুলির খই ফোটে বিদ্যুৎকেন্দ্রে। আবদুল মান্নান ও তাঁর সহযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ মোকাবিলা করেন। তুমুল যুদ্ধের একপর্যায়ে আবদুল মান্নান হঠাৎ গুলিবিদ্ধ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাঁর বুকে কয়েকটি গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ। শহীদ হন তিনি। সেদিন পাকিস্তান সেনাবাহিনীরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে তিনি শহীদ ও দলনেতা সুলতান মাহমুদসহ তিন-চারজন আহত হন। মদুনাঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংসের অপারেশন ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিরাট এক সাফল্য। তখন এই অপারেশনের খবর স্বাধীন বাংলা বেতারসহ বিদেশি বেতার ও খবরের কাগজে ব্যাপক প্রচার পায়। অবশ্য এই সাফল্য ছিনিয়ে আনতে গিয়ে আবদুল মান্নান শহীদ হন। সহযোদ্ধারা আবদুল মান্নানের মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও সমাহিত করতে পারেননি। তাঁর মরদেহ তাঁরা স্থানীয় গ্রামবাসীর কাছে রেখে আসেন। তাঁরা মান্নানের মরদেহ ওই গ্রামেই সমাহিত করেন। এই সমাধি সংরক্ষিত নয়।