এস এম ইমদাদুল হক

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালের ৭ নভেম্বর মৌলভীবাজার জেলার ধামাই চা-বাগানে ছিল পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর শক্ত একটি ঘাঁটি। সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে মুক্তিবাহিনীর স্বল্প তৎপরতার কারণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এই এলাকায় ব্যাপক আধিপত্য বিস্তার করে। ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে ধামাই চা-বাগানের অবস্থান ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য ধামাই চা-বাগানে আক্রমণ করা, চা-বাগানের দখল নেওয়া মুক্তিবাহিনীর জন্য অপরিহার্য হয়ে পড়ে। আর ধামাই চা-বাগানে আক্রমণের দায়িত্ব পড়ে এস এম ইমদাদুল হকের ওপর। ৭ নভেম্বর রাতে তাঁর নেতৃত্বে প্রায় ১০০ মুক্তিযোদ্ধা সীমান্ত অতিক্রম করে চা-বাগান থেকে দূরে এক স্থানে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে অবস্থান নেন। আক্রমণের নির্ধারিত সময় ছিল ভোররাত। আক্রমণ শুরুর আগে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি এগিয়ে যান পাকিস্তানিদের অবস্থান নিজ চোখে দেখার জন্য। এ সময় বাগানে থাকা কয়েকটি কুকুর ডেকে উঠলে পাকিস্তানিরা তাঁদের উপস্থিতি টের পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে গুলি শুরু করে। তাঁর সঙ্গে থাকা মুক্তিযোদ্ধারাও পাল্টা গুলি করেন। তিনি নিজে পাকিস্তানি ক্যাম্প লক্ষ্য করে গ্রেনেড ছোড়েন। শুরু হয়ে যায় তীব্র গোলাগুলি। এর মধ্যে দূরে থাকা সহযোদ্ধারাও তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন। ইমদাদুল হক সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকজন সহযোদ্ধাকে নিয়ে ঢুকে পড়েন পাকিস্তানি অবস্থানের একদম ভেতরে। এ সময় আহত হন তাঁর এক সহযোদ্ধা। তাঁকে উদ্ধার করতে তিনি নিজেই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। আর ঠিক তখনই গুলি এসে লাগে তাঁর বুকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। শহীদ হন এই সাহসী যোদ্ধা। সে দিন যুদ্ধে আরও দুজন শহীদ হন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা তাঁর এবং অন্য দুই সহযোদ্ধার মরদেহ উদ্ধার করে সমাহিত করেন ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের চল্লিশধন কদমতলায়।