কাঁঠালতলা বধ্যভূমি

Posted by ????? ??? ??????
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

সিলেটের বিয়ানীবাজারের উপজেলা চত্বরে অবস্থিত কাঁঠালতলা বধ্যভূমি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এদেশীয় স্থানীয় দোসরদের সহযোগিতায় নির্যাতনের পর নিরিহ মানুষদের হত্যা করে বিয়ানীবাজার উপজেলা চত্বরের মধ্যভাগে থাকা কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে মাটিচাপা দিত। এ বধ্যভূমিতে দেশের একমাত্র প্রবাসী বাউলশিল্পী শহিদ কমর উদ্দিনসহ কমপক্ষে ৬০ মানুষকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয়ার তথ্য রয়েছে। সে সময় কাঁঠালতলা বধ্যভূমি থেকে হাত-পা ও চোখ বাঁধা অবস্থায় স্বজনরা জীবিত উদ্ধার করেছিলেন শিক্ষক (অব.) কাজী মতিউর রহমানকে। তিনি বলেন, ডাকবাংলোয় তিন দিন আটকে রেখে নির্যাতনের পর কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে আমাকে হত্যা করে মাটি চাপা দেয়ার জন্য আনা হয়। কিন্তু গুলি করার আগ মুহূর্তে কী কারণে আমাকে হত্যা না করে পাকি সৈন্যরা চলে যায়। পরে শুনেছি, মুক্তিযোদ্ধারা পার্শবর্তী হাকালুকি হাওরে পাকি সেনাদের তিন দিকে ঘিরে রেখেছিলেন। সেখানে পাকি সেনাদের উদ্ধার করতে তারা দ্রুত চলে যায়। তিনি বলেন, আমার সাথে একই কক্ষে আটক ছিলেন বাউলশিল্পী কমর উদ্দিন। তাকেও নিমর্ম নির্যাতন করে ১৯ সেপ্টেম্বর (১৯৭১) কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে গুলি করে হত্যা করা হয়। ২০ সেপ্টেম্বর একইভাবে আমারও শহিদ হওয়ার কথা ছিল, ভাগ্যগুণে বেঁচে যাই। কাঁঠালতলা বধ্যভূমির বর্তমান চিত্র দেখে তিনি বলেন, অনেকবার আমরা উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীলদের বধ্যভূমি যথাযথ মর্যাদায় সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু আমাদের দাবি শুধু দাবিতে আটকে আছে। উপজেলা প্রশাসন কাঁঠালতলা বধ্যভূমিতে ১৯৮৪ সালে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করে। স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের দাবির মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফজালুর রহমান এ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করেন। পরবর্তীকালে বধ্যভূমির উপর শৌচারগার, ভবন ও পয়োনিষ্কাশন লাইন সরানোর কথা থাকলেও তা ৩২ বছরেও কার্যকর হয়নি। ছবি ও তথ্যসূত্র: আঞ্চলিক অনলাইন নিউজ পোর্টাল