চুয়াডাঙ্গার জগন্নাথপুরের আটকবর

Posted by ইরফানুল হক
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের আটকবর। মুক্তিযুদ্ধে আট শহীদের সমাধিকে ঘিরেই আটকবর কমপ্লেক্স। চুয়াডাঙ্গা থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে এ সমাধিস্থল। ০.৬৬ একর জমির ওপর ১৯৯৮ সালে এ আটকবর কমপ্লেক্সের যাত্রা শুরু হয়। সমাধি ছাড়াও এখানে আছে উন্মুক্ত মঞ্চ ও একটি দোতলা ভবন। এ ভবনের দেয়ালজুড়ে রয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ধারাবাহিক ইতিহাসের ২০০টি আলোকচিত্র। এ ছাড়া কেউ মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে গবেষণা করতে চাইলে এ কমপ্লেক্সে আবাসিক সুবিধাও পেতে পারেন। এখানে একটি গ্রন্থাগারও আছে। আট শহীদ হলেন- শহীদ রওশন আলম, শহীদ রবিউল ইসলাম, শহীদ কিয়ামুদ্দিন, শহীদ খালিদ সাইফুদ্দিন আহমেদ তারেক, শহীদ হাসান জামান, শহীদ আফাজ উদ্দীন, শহীদ আবুল কাশেম ও শহীদ আলাউল ইসলাম খোকন। এই আট শহীদের বন্ধু ও সহযোদ্ধা এবং জাতীয় সংসদের বর্তমান হুইপ সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার (ছেলুন)। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে তিনিই এ আট শহীদের কবর ও তাদের স্মৃতি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেন। তার প্রচেষ্টায় আটকবর এখন আধুনিকভাবে সংরক্ষিত। এটি এখন এ অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম দর্শনীয় স্থান হিসেবেও পরিচিত। একাত্তরের ৩ আগস্ট কমান্ডার হাফিজুর রহমান জোয়ার্দ্দারের নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদার জপুর ক্যাম্পে অবস্থান নেন। চার আগস্ট মুক্তিযোদ্ধারা এ ক্যাম্পে কুবাদ খাঁ নামের এক পাকিস্তানি দালালকে ধরে আনেন। পাঁচ আগস্ট সকালে কুবাদ খাঁর দু'জন লোক ক্যাম্পে এসে গুজব খবর দেয়- রাজাকাররা গ্রামের পাকা ধান কেটে নিয়ে যাচ্ছে। খবর শুনে কমান্ডার হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা ছুটে যান জপুর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে বাগোয়ান গ্রামে। তারা দুটি দলে বিভক্ত হয়ে অগ্রসর হতে থাকেন। তখন নাটুদা ক্যাম্পের পাকিস্তানি সৈন্যরা ইউকাটিং অ্যাম্বুস করে মুক্তিযোদ্ধাদের আটকে ফেলে। ফলে সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে পাকিস্তানি সৈন্যদের একটি সম্মুখ যুদ্ধ হয়। ওই যুদ্ধেই শহীদ হন আট মুক্তিযোদ্ধা। পরে স্থানীয় জগন্নাথপুর গ্রামের মানুষ শহীদ ওই যোদ্ধাদের দুটি গর্তে গণকবর দেন। মুক্তিযুদ্ধের এ সমাধিসৌধটিই স্থানীয়দের কাছে জগন্নাথপুরের আটকবর হিসেবে পরিচিত। ছবি ও তথ্যসূত্র: দৈনিক সমকাল