ঢাকা স্টেডিয়ামে পশ্চিম পাকিস্থানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ সমাবেশ

Posted by Rudro Chowdhury
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

পহেলা মার্চ, ১৯৭১। দুপুর ১টা। ঢাকা স্টেডিয়ামে (বর্তমান বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম) ২৬ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া আন্তর্জাতিক একাদশের বিপক্ষে পাকিস্তানের বেসরকারি টেস্ট ম্যাচের চতুর্থ দিনের খেলা চলছে। লাঞ্চ ব্রেক। খেলার দেখতে বসা দর্শকগুলোর অখণ্ড মনোযোগ কিন্তু খেলাতে নয়, পাকিস্তান রেডিওতে।প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া নাকি জরুরি ভাষণ দেবে। বেলা ১টায় ইয়াহিয়ার ভাষণ প্রচারিত হল, ইয়াহিয়া না, অন্য একজনের কণ্ঠে। ৩রা মার্চ জাতীয় পরিষদের যে অধিবেশন বসার কথা ছিল, যেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করার কথা ছিল শেখ মুজিবের হাতে,তা অনির্দিষ্ট কালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। প্রথমে বোধহয় কাজী কামাল চিৎকার দিয়ে ওঠে, “ইয়াহিয়ার ঘোষণা মানি না,মানব না।" তাতে গলা মেলায় জুয়েল, ”বীর বাঙ্গালী অস্ত্র ধর, বাংলাদেশ স্বাধীন করো। পুরো গ্যালারী যেন আগ্নেয়গিরির বিস্ফোরণ ঘটেছে, তার লাভা স্রোতে ভেসে যাচ্ছে সবকিছু। যার কাছে যা ছিল, তাতেই আগুন ধরিয়ে দিয়েছে দর্শক, লাভা স্রোত ছড়িয়ে যাচ্ছে যদ্দুর চোখ যায়। আজাদ, জুয়েল,রুমী, জামী, কামাল, হিউবারট রোজারিয়ো—বারুদগুলোতে কেউ যেন আগুন ধরিয়ে দিল, “তোমার আমার ঠিকানা, পদ্মা মেঘনা যমুনা... কেবল স্টেডিয়াম থেকেই ৪০-৫০ হাজার উন্মত্ত দর্শক "জয় বাংলা" শ্লোগান দিতে দিতে বের হয়ে আসলো রাজপথে। ঢাকার সর্বত্র গণবিক্ষোভে একাকার হয়ে গেল। বায়তুল মোকাররম-স্টেডিয়ামের সব দোকান পাট বন্ধ করে দিলো দোকান মালিকেরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাওয়ার আশংকা করা হলে ইয়াহিয়া খান তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাহেব জাদা ইয়াকুব আলি খানকে কিছু শর্ত দিয়ে পাঠালেন শেখ সাহেবের কাছে। শেখ সাহেব কোনরকম শর্ত মেনে নিতে রাজী না হওয়াতে ইয়াকুব আলী খান হুমকি দিয়ে বলেন, "দরকার পড়লে পুর্ব পাকিস্তানে কামান দাগানো হবে"। শেখ সাহেব টেবিলে থাবা দিয়ে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে উঠেন, "আপনি আমাকে কিছু করলেও আমি সহ্য করবো কিন্তু বাংলা আর বাঙ্গালীদের উপর কামান দাগালে আমি তার বদলা নেবো।" ডন পত্রিকাকে ক্ষমতার পালাবদল নিয়ে যে ষড়যন্ত্র চলছে, তা সম্পর্কে শেখ মুজিব বলেন, "We will die but will never surrender”, তিনি জয় বাংলা শ্লোগান সম্পর্কে বলেন, "জয় বাংলা কোন সাধারণ পলিটিকেল শ্লোগান নয়। জয় বাংলা হলো বাংলার মানুষের আদর্শিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক মুক্তির শ্লোগান। এটা বেঁচে থাকবার অধিকার আর নিজস্ব সংস্কৃতি পালনের অধিকার আদায়ের শ্লোগান। তথসুত্রঃ ১) এম কে দোলন বিশ্বাস এর রিপোর্ট, তার নেয়া তথ্যঃ এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম (অবসরপ্রাপ্ত লে. কর্নেল আবু ওসমান চৌধুরী) ২) দৈনিক ডন ১লা মার্চ, ১৯৭১ (সুত্রঃ স্বাধীনতা যুদ্ধের দলিল পত্র দ্বিতীয় খন্ড, পৃষ্ঠাঃ ৬৬০-৬৬২) ৩) ড মো আনোয়ার হোসেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় জাতীয় পুনর্জাগরণ মার্চ ১৫, ২০১৩, বিডিনিউজ২৪ ছবি কৃতজ্ঞতাঃ Anjum Shykh Utchas