তিনজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রীদের আবেদন

Posted by ইরফানুল হক
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশের তিনজন বিশিষ্ট পুলিশ অফিসারের স্ত্রী তাদের স্বামীদের অপহরণ করে নিয়ে যাবার জন্য দায়ী হানাদার পাক বাহিনীর অফিসারদের বিচার করে উপযুক্ত শাস্তিদানের জন্য সরকারের নিকট আবেদন জানিয়েছেন। যে তিনজন পুলিশ অফিসারকে বর্বর পাক বাহিনী অপহরণ করে নিয়েছে তারা হলেন রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি জনাব মামুন মাহমুদ, রাজশাহীর এএসপি শাহ আবদুল মজিদ ও চট্টগ্রামের এসপি জনাব শামসুল হক। জনাব মামুন মাহমুদকে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ শাহ্‌ আবদুল মজিদকে ৩১শে মার্চ এবং জনাব শামসুল হককে ১৭ই এপ্রিল পাক-বাহিনী তাদের বাসা হতে ধরে নিয়ে যায়। আজ পর্যন্ত এদের কোন খবর নেই। এই তিনজন পুলিশ অফিসারের স্ত্রী গত ৯ মাসে বারবার হানাদার পাকবাহিনীর উচ্চপদস্থ অফিসারদের দ্বারে ধর্না দিয়েও তাদের স্বামীর ভাগ্যে কি ঘটেছে সে সম্পর্কে কোন সঠিক খবর জানতে পারেননি। এই তিনজন ভদ্রমহিলা ও তাদের সন্তানসন্ততিরা এক নিদারুণ মানসিক যাতনার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন। এরা কি আজও বেঁচে আছেন? যদি বেঁচে থাকেন তবে কোথায় কিভাবে আছেন? যদি বেঁচে না থাকেন তবে কোথায় কিভাবে তাদের হত্যা করা হয়েছে সে খবর পাকবাহিনীর ধুত সামরিক অফিসারদের নিকট হতে তারা জানতে চান। এই অফিসারদের অপহরণের ষড়যন্ত্রের নায়ক মেজর জেনারেল রাও ফরমান আলী বর্তমানে মিত্র বাহিনীর হাতে বন্দী। একমাত্র তিনিই এ ব্যাপারে প্রকৃত তথ্য দিতে পারেন। জনাব মামুন মাহমুদের স্ত্রী মিসেস মোশফেকা মাহমুদ জানান যে তার স্বামীকে অপহরণ করার সঙ্গে মেজর সালমান মাহমুদ (তদানীন্তন ক্যাপটেন) (এফ আই ইউ) সরাসরি জড়িত ছিলেন। তিনি জানান যে তার স্বামীকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অনেক দিন পরে নির্ভরযোগ্য মহল হতে তিনি জানতে পেরেছেন যে ১৪ই ও ১৫ই এপ্রিলের মাঝামাঝি রাতে জনাব মাহমুদকে রাজশাহী ক্যান্টমেন্টে গুলি করে হত্যা করা হয়। রাজশাহীতে ইনটেলিজেন্স বহুবোধ কতিপয় বাঙ্গালী অফিসারকে হত্যার পেছনেও মেজর সালমান মাহমুদের হাত রয়েছে বলে তিনি জানান। এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য রাও ফরমান আলীর কাছে রয়েছে বলে পাকবাহিনীর জনৈক ক্যাপ্টেন তাকে একবার বলেছিলেন। জনাব মজিদের ব্যাপারেও সালমান মাহমুদ দায়ী বলে মিসেস মজিদ জানান। জনাব শামসুল হকের ব্যাপারে ব্রিগেডিয়ার হাসান, মেজর আনিস চৌধুরী, কর্ণেল ফাতনী এবং ক্যাপটেন কায়ামী দায়ী বলে মিসেস শামসুল হক জানান। মিসেস মোশফেকা মাহমুদ, মিসেস মজিদ ও মিসেস মাহমুদা হক বর্বর পাকবাহিনীর এই নরঘাতকদের বেলায় জেনেভা চুক্তি প্রয়োগ না করে আন্তর্জাতিক আদালতে তাদের বিচার করার জন্য দাবী জানান। দৈনিক বাংলা, ০৬ জানুয়ারি, ১৯৭২ইং