তমিজউদ্দীন প্রামাণিক

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

১৯৭১ সালের ২৬ মে রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলার সীমান্তে পাকিস্তানি সেনারা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পাটেশ্বরী ডিফেন্সে ব্যাপক গোলাবর্ষণ শুরু করে। ফলে তাঁদের পক্ষে সেখানে টিকে থাকা সম্ভব হলো না। মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে এখানে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের একটি ডিফেন্স ছিল। দলে ছিলেন ইপিআর-মুজাহিদ-আনসার ও বেশ কয়েকজন ছাত্র-যুবক। তাঁরা এই ডিফেন্সে অবস্থান নিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতেন। ২৭ মে ভোরবেলা থানা হেডকোয়ার্টার্সে বসে আছেন প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অধিনায়ক ক্যাপ্টেন নওয়াজেশসহ কয়েকজন। এমন সময় দুজন লোক সেখানে আসে। জানাল, তাদের বাড়ি উলিপুর উপজেলায়। তারা আরও বলল, পাকিস্তানি সেনারা ধরলা নদী অতিক্রম করেনি। তাই মুক্তিযোদ্ধাদের পুনরায় পাটেশ্বরীতে ডিফেন্স নেওয়া প্রয়োজন। এ জন্য তারা দুজন খুব জোরাজুরি করতে থাকে। ওই দুজনের সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিরোধ যোদ্ধারা আবার পাটেশ্বরী ডিফেন্সে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। একটি ট্রাক, একটি পিকআপ ও একটি জিপ গাড়িতে রওনা হলেন প্রায় ১০০ জন যোদ্ধা। তাঁদের সঙ্গে রয়েছেন মুজাহিদ বাহিনীর তমিজউদ্দীন প্রামাণিক। আসলে ওই দুজন ছিল পাকিস্তানিদের অনুচর। পাকিস্তানিরা তাদের পাঠিয়ে দিয়ে পাটেশ্বরীতে অ্যামবুশ করে প্রতিরোধ যোদ্ধাদের অপেক্ষায় ছিল। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বহনকারী গাড়ি সেখানে পৌঁছামাত্র পাকিস্তানিরা আক্রমণ করে। প্রতিরোধ যোদ্ধারা দিশেহারা হয়ে পড়েন। প্রাথমিক হতচকিত অবস্থা কাটিয়ে তাঁরা গাড়ি থেকে লাফিয়ে নিচে নেমে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করলেন। প্রতিরোধ যোদ্ধারা খণ্ড খণ্ড যুদ্ধে লিপ্ত হন। কিন্তু পাকিস্তানি সেনাদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে শেষ পর্যন্ত তাঁরা ছত্রভঙ্গ হয়ে গেলেন। শহীদ হলেন বেশ কয়েকজন। এর পরও তাঁদের অন্যতম অধিনায়ক মুজাহিদ বাহিনীর অনারারি ক্যাপ্টেন তমিজউদ্দীন প্রামাণিক সংঘর্ষস্থল পরিত্যাগ না করে একাই সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকেন। তাঁর গুলিতে বেশ কয়েকজন শত্রুসেনা হতাহত হয়। এই অসম যুদ্ধের একপর্যায়ে তিনিও শত্রুর গুলিতে শহীদ হন