দেলোয়ার হোসেন (বীর বিক্রম)

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে দেলোয়ার হোসেন যুদ্ধে যোগ দেন। আগে থেকেই তাঁর অস্ত্র চালনার এবং যুদ্ধের প্রশিক্ষণ নেওয়া ছিলো। ভারতে গিয়ে দেলোয়ার হোসেন দেখা করেন নিয়মিত মুক্তিবাহিনীর চতুর্থ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে। তাঁদের সঙ্গে কয়েক দিন থাকেন। পরে ১৮ জনের একটি দল গঠন করে সেই দলের নেতৃত্ব দেওয়া হয় তাঁর ওপর। তাঁদের দেশের ভেতরে পাঠানো হয় হিট অ্যান্ড রান পদ্ধতিতে গেরিলাযুদ্ধ করার জন্য। দেলোয়ার হোসেন তাঁর দল নিয়ে প্রথমে কিছুদিন কুমিল্লা জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোটখাটো কয়েকটি গেরিলা অপারেশন করেন। এরপর কুমিল্লা অঞ্চলে অবস্থান করা তাঁদের জন্য বিপজ্জনক হয়ে পড়লে তাঁরা চলে যান নোয়াখালীর মুক্ত এলাকায়। মুক্ত এলাকায় অবস্থান করে তাঁরা মাঝেমধ্যেই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর ঝটিকা আক্রমণ চালাতে থাকেন। আক্রমণ চালিয়েই তাঁরা নিরাপদ স্থানে সরে যেতেন। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের খুঁজে পেত না। তাঁদের এসব আক্রমণে পাকিস্তানিদের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হয়। পরে সেক্টর হেডকোয়ার্টারের নির্দেশে জুলাই মাসে দেলোয়ার হোসেন তাঁর দল নিয়ে চলে আসেন চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলায় । সেখানে অবস্থানকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাঁদের গতিবিধি টের পেয়ে যায়। ১৯৭১ সালের ১৭ জুলাই পাকিস্তানি সেনাদের একটি বড় দল তাঁদের আক্রমণ করে। দেলোয়ার হোসেন সহযোদ্ধাদের নিয়ে সাহসিকতার সঙ্গে আক্রমণ মোকাবিলা করছিলেন। অনেকক্ষণ ধরে যুদ্ধ হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে তাঁর বুকে গুলি লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর জীবনপ্রদীপ নিভে যায়। সহযোদ্ধারা পরে তাঁর মরদেহ নৌকাযোগে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে তাঁকে সমাহিত করা হয়।