নূরুল ইসলাম (বীর বিক্রম)

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালের ৯ আগস্ট যশোর জেলার চৌগাছা উপজেলার বর্নীতে ছিলো সীমান্ত বিওপি। ১৯৭১ সালে সেখানে ছিল প্রায় ৭৫-৮০ জন পাকিস্তানি সেনা। একদল রাজাকারও তাদের সঙ্গে ছিল। ৯ আগস্ট বয়রা সাব-সেক্টরের সাব-সেক্টর কমান্ডার খন্দকার নাজমুল হুদার (বীর বিক্রম) নেতৃত্বে একদল মুক্তিযোদ্ধা বর্নী সীমান্ত বিওপিতে আক্রমণ করেন। কয়েক ঘণ্টা ধরে সেখানে যুদ্ধ হয়। মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকার মিলে ১৪-১৫ জন নিহত হয়। যুদ্ধের একপর্যায়ে পাকিস্তানি সেনা ও রাজাকাররা লাশ ও অনেক অস্ত্রশস্ত্র ফেলে সেখান থেকে পালিয়ে যায়। এরপর খন্দকার নাজমুল হুদার নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্রশস্ত্রগুলো সংগ্রহ করে নিজ ঘাঁটিতে নিয়ে যান। তাঁর নির্দেশ পেয়ে নূরুল ইসলামের সহযোদ্ধারা সেগুলো সংগ্রহ করে নিজ ঘাঁটিতে পাঠাতে থাকেন। সেখানে ছিল একটি খাল। তার পূর্ব পারে ছিলেন অধিনায়কসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তাঁদের মধ্যে নূরুল ইসলামও ছিলেন। বাকি মুক্তিযোদ্ধারা ছিলেন খালের পশ্চিম পারে। এমন সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নতুন একটি দল পেছন দিক থেকে এসে হঠাৎ তাঁদের ওপর আক্রমণ করে। উৎফুল্ল মুক্তিযোদ্ধারা আকস্মিক ওই আক্রমণে প্রস্তুত ছিলেন না। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আকস্কিক পাল্টা আক্রমণে খালের পূর্ব পারে থাকা মুক্তিযোদ্ধারা চরম বিপদের মুখে পড়েন। পাকিস্তানি সেনাদের হাতে তাঁরা প্রায় ঘেরাওয়ের উপক্রম হন। তখন নূরুল ইসলামসহ কয়েকজন বিচলিত না হয়ে সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে থাকেন। ওই সুযোগে তাঁর সহযোদ্ধা নূর মোহাম্মদ শেখ (বীরশ্রেষ্ঠ) ও আবুল হোসেন (বীর প্রতীক) অধিনায়কসহ কয়েকজনকে খাল পার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। খালের পূর্ব পারে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলতে থাকে। ওই যুদ্ধে নূরুল ইসলামসহ চারজন মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর গুলিতে শহীদ হন। পরে মুক্তিযোদ্ধারা নূরুল ইসলাম ও তাঁর সহযোদ্ধাদের মরদেহ উদ্ধার করে বর্নীতে সীমান্তসংলগ্ন স্থানে সমাহিত করেন।