নাসির উদ্দিন (বীর উত্তম)

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত প্রতিরক্ষা ছিলো শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার অন্তর্গত নকশী বিওপি। ৩ আগস্ট শেষ রাতে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এ প্রতিরক্ষা অবস্থানে আক্রমণ করেন। এ যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর দলে ছিলেন নাসির উদ্দিন। যুদ্ধে তিনি শহীদ হন। এ যুদ্ধে নেতৃত্ব দেন আমীন আহম্মেদ চৌধুরী। তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের দুই কোম্পানি মুক্তিযোদ্ধা নিয়ে আক্রমণ করেন নকশী বিওপিতে। বিওপি থেকে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকের শালবনে এফইউপি (ফর্মিংআপ প্লেস) নির্ধারণ করা হয়। মুক্তিযোদ্ধারা অ্যাসেম্বলি এরিয়া থেকে এফইউপিতে পৌঁছান এবং মাঝপথে নালা অতিক্রম করার সময় কোনো শব্দ হয়নি। পূর্বসিদ্ধান্ত অনুযায়ী গভীর রাতে আর্টিলারি ফায়ার শুরু করার সংকেত দেন আমীন আহম্মেদ চৌধুরী। সঙ্গে সঙ্গে আর্টিলারি গর্জে ওঠে। একই সময় পাকিস্তানি আর্টিলারির কামান ও মর্টার থেকেও গোলাবর্ষণ শুরু হয়। নাসির উদ্দিনসহ অন্য মুক্তিযোদ্ধারা এক্সটেনডেড ফরমেশন করে সামনে এগিয়ে যান। আক্রমণের সব কার্যক্রম সুষ্ঠু ও সাবলীল গতিতে চলতে থাকে। পাকিস্তান সেনাবাহিনী এমন আক্রমণে ঘাবড়ে যায়। একপাশ থেকে নাসির উদ্দিন সাহসের সঙ্গে ক্ষিপ্রগতিতে এগোতে থাকেন এবং অন্য প্রান্ত দিয়ে আমীন আহম্মেদ চৌধুরী এবং সিরাজুল হক,বীর প্রতীকপাকিস্তানি বাংকার লক্ষ্য করে এগোতে থাকেন। মুক্তিযোদ্ধাদের এমন মনোবল দেখে শত্রুরা তখন পলায়নরত। তখন মুক্তিযোদ্ধারা অস্ত্র উঁচু করে রীতিমতো দৌড়াতে থাকেন। নাসিরসহ মুক্তিযোদ্ধারা যখন শত্রুশিবিরের মাত্র ১০০ গজের মধ্যে, ঠিক তখনই শত্রুদের নিক্ষিপ্ত একটি আর্টিলারির শেলভো ফায়ার এসে পড়ে তাঁদের ওপর। সঙ্গে সঙ্গে বেশ কয়েকজন মাটিতে ঢলে পড়েন। এর মধ্যে নাসির উদ্দিনও ছিলেন। এ যুদ্ধে আমীন আহম্মেদ চৌধুরীও আহত হন।