বরিশাল ওয়াপদা টর্চার সেল ও বাংকার

Posted by Sohanur Rahman
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

বরিশালে পাক হানাদার বাহিনী আসে ২৫ এপ্রিল। ওই দিন গানবোট ও হেলিকপ্টারে করে হানাদার বাহিনীর একাধিক গ্রুপ স্টিমারঘাট, বিসিক ও চরবাড়িয়া এলাকা থেকে শহরে প্রবেশ করে। ২৯ এপ্রিল পাক বাহিনী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিপরীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়াপদা কলোনি দখল করে একাধিক ভবনে ক্যাম্প ও টর্চার সেল স্থাপন করে। এ ক্যাম্প থেকেই ঝালকাঠি, পটুয়াখালী ও ভোলায় অপারেশন চালাতো পাক বাহিনী। ক্যাম্প সংলগ্ন সাগরদী খালের তীরে ৩টি বাংকার তৈরি করে বসানো হয় পাহারা। টর্চার সেলে মুক্তিযোদ্ধাসহ সাধারণ নারী-পুরুষদের ধরে এনে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে সারা শরীর রক্তাক্ত করার পর হত্যা করে লাশ ফেলে দেয়া হতো খালে। তবে ওয়াপদা ক্যাম্পে কত বাঙালি মুক্তিকামী নারী-পুরুষকে হত্যা ও নির্যাতন চালানো হয়েছে তার সুনির্দিষ্ট কোন হিসাব নেই কারো কাছে। ক্যাম্পের পশ্চিম দিকে সাগরদী খালের তীরে বাংকার তৈরি করে সশস্ত্র পাহারা দিত পাক সেনারা। আজো পড়ে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের পাক হানাদারদের বাংকারগুলো। তবে বরিশাল নগরীর তিন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে পাক হানাদাররা হত্যা করার পর তাদের মৃতদেহ সাগরদী খালে পাওয়া যায়। তারা হলেন- শহীদ মজিবর রহমান কাঞ্চন, শহীদ আলমগীর ও শহীদ নজরুল। এ তিন বীরের কবর বরিশাল মুসলিম গোরস্তানে রয়েছে। বরিশালের ওয়াপদা কলোনিতে টানা ১৯ দিন পাক হানাদারদের টর্চার সেলে বন্দি থাকা যুদ্ধাহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এএমজি কবির ভুলু জানান, ৭১’র ১৬ জুলাই সকালে গৌরনদীর বাটাজোর খালে পাক হানাদারদের হাতে ধরা পড়েন তিনি। নৌকার মাঝি মেহের আলী, আনোয়ার ও তাকে (ভুলুকে) ওই দিন নিয়ে রাখা হয় গৌরনদীর সরকারি কলেজের পাক সেনা ক্যাম্পে। সেখানে দিনভর তাদের ওপর চলে নির্মম নির্যাতন। সন্ধ্যায় তিন জনকেই নিয়ে আসা হয় ওয়াপদা কলোনির টর্চার সেলে।