মুক্তিযোদ্ধা নূর উন নবী ভূঁইয়া

Posted by Shahida Akhter
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

নূর উন নবী ভূঁইয়া মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নূর হোসেনের ছোট ভাই। তাঁর জন্ম ১৯৫০ সালের ১১ নভেম্বর ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম যুদ্ধাহত মাস্টার ইছহাক ভূঁইয়া এবং মা মরহুম সৈয়দা নজিরেরনেসা বেগম। তাঁদের পিতাকে পাকসেনারা নির্যাতন করে। এতে তিনি পঙ্গু হয়ে যান। ১৯৭১ সালে নূর উন নবী ভূঁইয়া ঢাকার নটরডেম কলেজে বিএসসি-র ছাত্র ছিলেন। সে সময় তিনি ছাত্রলীগ ঢাকা নগর কমিটির সম্পাদক ছিলেন এবং তৎকালীন রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ২রা মার্চ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ৩রা মার্চ পল্টন ময়দানের জনসভায় স্বাধীনতা ইশতেহার পাঠ এবং ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের সময় তিনি সক্রিয়ভাবে উপস্থিত ছিলেন। ১২ মার্চ নূর উন নবী গ্রামের বাড়ি চলে যান এবং এলাকার মানুষকে স্বাধীনতার পক্ষে উদবুদ্ধ করার কাজে লিপ্ত হন। ২৫ মার্চের পরে সীমান্ত অতিক্রম করে প্রথমে তিনি ঋশ্যমুখ ইয়ুথ ক্যাম্পে যান। সেখান থেকে আ স ম আবদুর রব ও আবদুল কুদ্দুস মাখন তাঁকে নিয়ে যান আগরতলা। তারপর শেখ ফজলুল হক মনির তত্ত্বাবধানে বিএলএফ-এর (Bangladesh Liberation Force - BLF) সদস্য হিসেবে দেরাদুন আর্মি হেডকোয়ার্টার-এ প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণ শেষে নূর উন নবী ভূঁইয়া আগরতলা, উদয়পুর ও চোত্তাখোলা হয়ে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম দিয়ে ২ নম্বর সেক্টরের আওতাধীন নোয়াখালীর সেনবাগ, কানকিরহাট এবং ফেনীর রাজাপুর ও কোরাইশমুন্সী এলাকায় গেরিলা যুদ্ধে যোগ দেন। ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি এখানেই যুদ্ধ করেন। মুক্তিযোদ্ধা নূর উন নবী ভূঁইয়া একজন সমাজ সচেতন মানুষ ও শিল্পসাহিত্যের প্রতি অনুরাগী। ছাত্রজীবন থেকেই তিনি সমাজসেবার কাজে যুক্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। ১৯৬৯ সালে ১১ দফা আন্দোলনের সময় তাঁকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হয়। স্বাধীনতার পরে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মনোবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর প্রথম বর্ষ সম্পন্ন করেন। ১৯৭৩ সালে তাঁর ভাই মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেনের মৃত্যুর পর তিনি বাংলাদেশ বিমানে যোগ দেন এবং ২০০৭ সালে বিমানের চাকরি থেকে অবসর গ্রহন করেন। তথ্যঃ মুক্তিযোদ্ধা নূর উন নবী ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত।