মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র

Posted by আরিফ রহমান
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শঠতা নিয়ে লিখবো ভেবেছিলাম! কিন্তু সময়ের অভাবে লিখতে পারিনি। কয়েকদিনে মিলে অল্প অল্প করে লিখেছিলাম! সব মিলিয়ে আজ যুক্ত করলাম। মুক্তিযুদ্ধের সূচনা লগ্নেই পাকিস্তানের পক্ষে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নীতিগত অবস্থান গ্রহণ করে। যে কারণে দেশটি বাংলাদেশের মুক্তিকামী-নিরীহ জনগণের সমর্থনে এগিয়ে আসেনি। তারা অবস্থান গ্রহণ করে পাকিস্তানের অখণ্ডতার নামে স্বৈরাচারী সামরিক জান্তার পক্ষে। তখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম. নিক্সনের একান্ত আস্থাভাজন ব্যক্তি ছিলেন তার জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক বিষয়ক একান্ত সহকারী হেনরি কিসিঞ্জার। আর এই নিক্সন,কিসিঞ্জার নিয়ন্ত্রিত মার্কিন নীতিই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে পরিচালিত হয়।যুদ্ধ চলাকালীন সময় যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে রাজনৈতিক ও বস্তুগত উভয়ভাবেই সহায়তা করে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তাদের কিছুই করার নেই বলে অভিমত প্রকাশ করেন। নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত গণহত্যার খবর সম্বন্ধে যে নির্বিকার ভূমিকা পালন করে, যার মধ্যে বহুল আলোচিত ‘ব্লাড টেলিগ্রাম’ অন্যতম। ব্লাড টেলিগ্রামের কপি দি ব্লাড-টেলিগ্রাম’ এপ্রিল ৬,১৯৭১ সালে অত্যন্ত কঠিন ভাষায় ,এটা ছিল আমেরিকার ফরেন অফিস থেকে এক অনবধ্য সংবাদ, যা এভাবে কখনো লেখা হয়নি ।.“আমাদের সরকার গণতন্ত্রের দমনে প্রকাশ্যে নিন্দা করতে ব্যর্থ হয়েছে। আমাদের সরকার নৃশংসতার বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে নিন্দা করতে তে ব্যর্থ হয়েছে।আমাদের সরকার ব্যর্থ হয়েছে কোন শক্তিশালী ব্যাবস্থা গ্রহন করতে এ দেশের নাগরিকদে রক্ষা করার জন্য ,যখন একই সময়ে,পশ্চিম পাকিস্তানী নিয়ন্ত্রিত সরকারের পিঠ চুলকাতে ব্যাস্ত এবং তাদের বিরুদ্ধে নেয়া কোন প্রাপ্য আন্তর্জাতিক সম্পর্কিত কঠিন কুটনৈতিক ব্যাবস্থা শীতিল করনে । আমাদের সরকার প্রমান করেছে, যা অনেকের বিবেচনয় , আমাদের নৈতিক অবক্ষয় ঘটেছে, অথচ আমরা নিরপেক্ষতা বেছে নিয়েছি, এমনকি মানবিক কারনেও , যে এটা মাঠে জনগনের সংঘাত ,শুদ্ধভাবে একটি স্বাধীন দেশের অভ্যন্তরীণ ব্যপার, যা দুর্ভাগ্যবশত ভাবে গণহত্যা হিসাবে প্রযোজ্য, । সাধারন আমেরিকান এর প্রতি অনাস্থা ব্যক্ত করেছে। আমরা, পেশাদার অসামরিকান কর্মচারী হিসেবে, বর্তমান নীতির সাথে আমাদের মত পার্থক্য ব্যক্ত করি এবং নিশ্চিত ভাবে আশা করি যে এখানে আমাদের সত্যি এবং স্থায়ী স্বার্থ সংজ্ঞায়িত করা যায় আমাদের নীতিমালা পরিবর্তিত করে “। “ Our government has failed to denounce the suppression of democracy. Our government has failed to denounce atrocities. Our government has failed to take forceful measures to protect its citizens while at the same time bending over backwards to placate the West Pak[istan] dominated government and to lessen any deservedly negative international public relations impact against them. Our government has evidenced what many will consider moral bankrupt,(…) But we have chosen not to intervene, even morally, on the grounds that the Awami conflict, in which unfortunately the overworked term genocide is applicable, is purely an internal matter of a sovereign state. Private Americans have expressed disgust. We, as professional civil servants, express our dissent with current policy and fervently hope that our true and lasting interests here can be defined and our policies redirected”The Blood telegram – এর হুবহু নমূনা । এর পূর্বে, মার্চ ২৭,১৯৭১ তারিখে ব্লাড লিখেছিলেন ঢাকার পরিস্থিতী, আমেরিকা দৃষ্টিকোন থেকে । বিষয় Heading ছিল “ Selective genocide” .Here in Decca we are mute and horrified witnesses to a reign of terror by the Pak[istani] Military. Evidence continues to mount that the MLA authorities have list of AWAMI League supporters whom they are systematically eliminating by seeking them out in their homes and shooting them down Among those marked for extinction in addition to the A.L. hierarchy are student leaders and university faculty. In this second category we have reports that Fazlur Rahman head of the philosophy department and a Hindu, M. Abedin, head of the department of history, have been killed. Razzak of the political science department is rumored dead. Also on the list are the bulk of MNA’s elect and number of MPA’s. Moreover, with the support of the Pak[istani] Military. non-Bengali Muslims are systematically attacking poor people’s quarters and murdering Bengalis and Hindus. (U.S. Consulate (Dacca) Cable, Selective genocide, March 27, 1971 মি: ব্লাড ২৮শে মার্চ ১৯৭১ সনের টেলিগ্রামের পর আরও একটি টেলিগ্রাম লেখেছিলেন যা তিনি সই করেননি । তার ফুটনোটে লিখেছিলেন “ I believe the most likely the eventual outcome of the struggle under way in east Pakistan is a Bengali victory and the consequent establishment of an independent Bangladesh”যদিও তাঁকে আরো ১৮ মাস রাখা হয়েছিল ঢাকায় ।এর পর প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও সেক্রেটারী অব ষ্টেট হেনরী কিসিঙার তাঁকে ডেকে পাঠান তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে, যেহেতু তাঁর প্রতিবাদ ছিল তাঁদের আশা আকাঙ্কা ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিরূদ্ধে । ইয়াহিয়া খান এবং রিচার্ড নিক্সনের বৈঠক ধারক নীতির আওতায় কম্যুনিজম সম্প্রসারণ রোধকল্পে যুক্তরাষ্ট্র এ ব্যাপারে সতর্ক হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের মাধ্যমে বাংলাদেশ যদি স্বাধীনতা লাভ করে তাহলে এ রাষ্ট্রটি কম্যুনিজম শাসন ব্যবস্থার অধীনে চলে যেতে পারে- এমন আশঙ্কা থেকে দক্ষিণ এশিয়ায় এ ব্যবস্থা রোধ করা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে মুক্ত বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য দেশটি মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সহযোগিতা করে।১৯৫৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ১৯৫৪ সালের ১৯ মে করাচিতে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি সাহায্য ও নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এছাড়া সমাজতন্ত্রের বিস্তার রোধ করার জন্য যুক্তরাষ্ট্র এশিয়া ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়াকে কেন্দ্র করে ১৯৫৪ ও ১৯৫৫ সালে সিয়াটো ও সেন্টো নামে দুটি প্রতিরক্ষা চুক্তি তথা মৈত্রী জোট গঠন করে। এ মৈত্রী জোট দুটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিল পাকিস্তান। তাই যুক্তরাষ্ট্র তার একজন বিশস্ত মিত্রকে রক্ষা করতেই মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানের পক্ষে সমর্থন দেয়। অন্যদিকে ১৯৫৪ সালে মার্কিন ও পাকিস্তান সামরিক সম্পর্ক শুরু হয়। তা ১৯৬৫ সালে এসে তা সুদৃঢ় আকার পায়। এই ১১ বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা বাজেটে ১.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেয়। এর উদ্দেশ্য ছিল- এশিয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিশস্ত মিত্র পাকিস্তানের সামরিক ব্যবস্থা উন্নত করা। এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের অন্যান্য ক্ষেত্রে উন্নয়নের জন্য তিন বিলিয়ন ডলার অনুদান দেয়, যাতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও ভৌগলিক অখণ্ডতা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। আরেকটি বিষয় এখানে কাজ করে; তা হলো- ১৯৬৯ সালে চীনের সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়নের সংঘাত চরমে আসে। যুক্তরাষ্ট্র এটিকে একটি সুযোগ মনে করে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে পাকিস্তানকে মাধ্যম বানাতে প্রচেষ্টা চালায়। ধারণা করা হয় ১৯৭১ সালে কিসিঞ্জারের চীন সফর সম্ভব হয়েছিল পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের কারণেই।১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা কী হবে তা নিয়ে মার্কিন কংগ্রেস ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সহায়তা করবে কিনা এ নিয়ে দ্বিমত দেখা দেয়। কারণ এ যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র জড়িয়ে পড়লে সোভিয়েত ইউনিয়নও জড়িয়ে পড়বে। ফলে বড় যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হবে। ১৯৭১ সালের ৬ মার্চ তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধিকার আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠার পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সিআইএ এর সমন্বয়ে গঠিত সিনিয়র রিভিউ কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের সম্ভাব্য ভাষণ, ২৫ মার্চের জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বান, পূর্ব-পাকিস্তানের স্বাধিকার আন্দোলন ও সামরিক উপায়ে সংঘাত মোকাবিলা এবং ভারতের ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। অর্থাৎ বাঙ্গালির স্বাধিকার আন্দোলন যখন স্বাধীনতার আন্দোলনে রূপ নিতে শুরু করল, তখন থেকে ঘটে যাওয়া সবকিছুতে কলকাঠি নেড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। অর্থাৎ প্রায় সকল ঘটনাই সংঘটিত হয়েছে আমেরিকার জ্ঞাতসারে।২৫ মার্চ থেকে ১০ জুলাই পর্যন্ত সময়কালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পূর্ব পকিস্তানের যুদ্ধে না জড়িয়ে নিরব ভূমিকা পালন করে। জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হেনরি কিসিঞ্জার গোপনে পাকিস্তানের সহায়তায় চীন সফর করেন। চীনের প্রেসিডেন্ট ঝউ এনলাইয়ের সাথে খাবার টেবিলে হেনরি কিসিঞ্জার চীনের প্রেসিডেন্ট ঝউ এনলাইয়ের সাথে প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সন ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মৈত্রী চুক্তির প্রতিপক্ষ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কের উন্নয়ন হয়। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এ সমস্যার কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করে এবং ভারতকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ না গ্রহণ করার জন্য আহ্বান জানায়।সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে ডিসেম্বরের ৩ তারিখ পর্যন্ত ভারতীয় সেনা সদস্যরা বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সামরিক সরকার ও বাংলাদেশের জাতীয় নেতৃবৃন্দের (যারা ভারত অবস্থান করেছিলেন) মধ্যে গঠনমূলক একটি রাজনৈতিক সংলাপ আয়োজনের চেষ্টা করে। কিন্তু তা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। ৩ ডিসেম্বর থেকে শুরু করে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সময়ে বাংলাদেশের যুদ্ধ উপমহাদেশে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ হিসেবে পরিচিত লাভ করে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি পাকিস্তানকে সাহায্য করার জন্য এগিয়ে আসে এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর এক বিবৃতিতে উপমহাদেশের সংঘাতের জন্য মুখ্যত ভারতকে দায়ী করে। ৪ঠা ডিসেম্বর ওয়াশিংটনে হেনরি কিসিঞ্জার নিরাপত্তা পরিষদের আহুত অধিবেশনে যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের দাবি সম্বলিত মার্কিন প্রস্তাব পেশ করার প্রস্তুতি নেন। নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন শুরু হবার পর মার্কিন প্রতিনিধি জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা, ভারত ও পাকিস্তানের সৈন্য স্ব-স্ব সীমান্তের ভেতরে ফিরিয়ে নেয়া এবং সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার উদ্দেশ্যে জাতিসংঘ মহাসচিবকে ক্ষমতা প্রদান করার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রতিনিধি এই প্রস্তাবকে ‘একতরফা’ বলে অভিহিত করে ভেটো প্রয়োগ করেন। পোল্যান্ডও প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেয়। ফ্রান্স ও ব্রিটেন ভোট দানে বিরত থাকে। পরদিন ৫ই ডিসেম্বরে নিরাপত্তা পরিষদের পুনরায় শুরু হওয়া অধিবেশনে সোভিয়েত ইউনিয়নের এক প্রস্তাবে বলা হয় পূর্ব পাকিস্তানে এমন এক ‘রাজনৈতিক নিষ্পত্তি’ প্রয়োজন যার ফলে বর্তমান সংঘর্ষের অবসান নিশ্চিতভাবেই ঘটবে এবং পাকিস্তানি বাহিনীর সহিংসতার দরুন যে পরিস্থিতির অবনতি ঘটেছে তাও অবলিম্বে বন্ধ করা প্রয়োজন। একমাত্র পোল্যান্ড প্রস্তাবটি সমর্থন করে। চীন ভোট দেয় বিপক্ষে। অন্য সকল সদস্য ভোটদানে বিরত থাকে। ঐ দিন আরও আটটি দেশের পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহারের পক্ষে নিরাপত্তা পরিষদে আরও একটি প্রস্তাব উত্থাপিত হয়। এবার সোভিয়েত ইউনিয়ন দ্বিতীয়বারের মত ভেটো প্রয়োগ করে। একই সময়ে ‘তাস’ মারফত এক বিবৃতিতে সোভিয়েত ইউনিয়ন সরকার ‘পূর্ব বাংলার জনগণের আইনসঙ্গত অধিকার ও স্বার্থের স্বীকৃতির ভিত্তিতে’ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের দাবি জানায়, এই সংঘর্ষ সোভিয়েত ইউনিয়ন সীমান্তের সন্নিকটে সংঘটিত হওয়ায় ‘এর সঙ্গে সোভিয়েত ইউনিয়ন নিরাপত্তার প্রশ্ন জড়িত বলে উল্লেখ করে এবং পরিস্থিতির অবনতি রোধকল্পে বিবাদমান পক্ষদ্বয়ের যে কোনটির সঙ্গে জড়িত হওয়া থেকে বিরত থাকার জন্য বিশ্বের সকল দেশের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। পাকিস্তানের পক্ষে নিঙ্ন প্রশাসনের ঝুঁকে পড়ার নীতির এক বলিষ্ঠ প্রয়োগকারী ব্যক্তি হচ্ছেন- হেনরি কিসিঞ্জার, যিনি তখন বাংলাদেশের ব্যাপারে প্রেসিডেন্টের যে কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণে অত্যন্ত আগ্রহী ও পারদশর্ী। কিসিঞ্জার তাঁর নিজের উচ্চতর ক্ষমতা ও যোগ্যতার অধিকারী হয়ে এবং প্রেসিডেন্ট নিক্সনের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সমীকরণের বলে তিনি এমনই একজন শক্তিশালী ব্যক্তিতে পরিণত হন যার ফলে তিনি বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন নীতি প্রণয়নের কেন্দ্রীয় চরিত্রে আবিভর্ূত হন। হেনরি কিসিঞ্জার কি করে এতটা শক্তিশালী হলেন? তিনি ছিলেন বিশ্ব পুঁজিবাদের শক্তিশালী রাষ্ট্র আমেরিকার অন্যতম ধনকুবের রকফেলারের আশ্রিত ব্যক্তি। তিনি হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চতর ডিগ্রীধারী ও হেনরি কিসিঞ্জার এবং ইয়াহিয়া খান আলাপের এক পর্যায়ে ঐ বিশ্ববিদ্যলয়ের এক সময়ের সরকার বিভাগের একজন প্রভাবশালী শিক্ষক। নিক্সন আমেরিকার জাতীয় স্বার্থে কিসিঞ্জারের মেধা ও যোগ্যতাকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। নিঙ্নকে যদি পাকিস্তানের পক্ষে ঝুঁকে পড়ার নীতির প্রবক্তা বলা হয়, তাহলে কিসিঞ্জার হচ্ছেন ঐ নীতি বাস্তবায়নে একজন বলিষ্ঠ ব্যক্তি ও অনুগত সহচর। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, বিশেষ করে বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে কিসিঞ্জারের রয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে যখন কিসিঞ্জারের সাক্ষাত হয় তখন কিসিঞ্জার সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে অনেকটা ত্যক্ত বিরক্তির ভাব নিয়ে বলেন, “মুজিব হচ্ছেন এমন এক ব্যক্তি, যাঁর রয়েছে ব্যাপক ধারণা, অর্থাৎ মুজিব মোটা বুদ্ধির মানুষ। তিনি নাকি বাংলাদেশের জাতির পিতা, যাঁর রয়েছে বিরাট অভিজ্ঞতা।” শেখ মুজিব সম্পর্কে কিসিঞ্জারের উক্ত মন্তব্য শোনার পর ঐ সময় এক সাংবাদিক কিসিঞ্জারকে প্রশ্ন করেছিলেন “মুজিব যদি ব্যাপক ধারণার লোক হয়ে থাকেন তাহলে আমেরিকা একাত্তরে কেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে রণতরী বঙ্গোপসাগরে পাঠিয়েছিল? কিসিঞ্জার সে প্রশ্নের উত্তর এড়িয়ে যান এবং তাড়াতাড়ি সেই সাংবাদিক সম্মেলন শেষ হয়ে যায়। লরেন্স লিপশুল্ রচিত “বাংলাদেশ : অসমাপ্ত বিপ্লব” (১৯৭৭) শীর্ষক গ্রন্থে ঐ ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। ঐ ঘটনার কয়েক সপ্তাহ আগে ১৯৭৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর যখন নিউইয়র্কে শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে কিসিঞ্জারের প্রথম সাক্ষাত হয় তখন কিসিঞ্জার সকল কূটনৈতিক শিষ্টাচার লঙ্ঘন করে অত্যন্ত রূঢ়ভাবে শেখ মুজিবকে জিজ্ঞাসা করেন “তিনি কি পাকিস্তানের জেলে দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন।’ মুজিব এ প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলেন “আপনি নিশ্চয়ই ওটা জানেন, পাকিস্তানের কোথায় আমাকে রাখা হয়েছিল এবং কি ব্যবহার করা হয়েছে।” শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে ঐ সাক্ষাতের সময়ই কিসিঞ্জার একাত্তর সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে আমেরিকার ভূমিকা সম্পর্কে মিথ্যাচার করে বলেন, “আমেরিকা বাংলাদেশের বিরুদ্ধাচরণ করেনি।” সত্যি, মিথ্যা বলতে কিসিঞ্জার কত দক্ষ ও কুশলী। কিন্তু ওটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ও ইতিহাসের নির্মম পরিহাসসূচক ব্যাপার যে, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ বিরোধিতাকারী ব্যক্তি কিসিঞ্জারের সভাপতিত্বে প্যারিসে ১৯৯৯ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮ সালের ইউনেস্কোর শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। কিসিঞ্জার তখন তাঁর বক্তব্যে একাত্তরে তার ন্যক্কারজনক ভূমিকার জন্য বিবেকের তাড়নায় কষ্ট পেয়েছিলেন কিনা জানি না। তিনি নাকি তখন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বের ও রাষ্ট্রনায়কোচিত ভূমিকার প্রশংসা করে অনেকটা গর্বভরে বলেছিলেন “তিনি শেখ পরিবারকে কয়েক দশক ধরে চিনেন।” কপটতা আর কাকে বলে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যখন দেখল যে, জাতিসংঘের মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি ও সৈন্য প্রত্যাহার করা যাচ্ছে না তখন তারা নৌ কূটনীতির আশ্রয় নেয়। দেশটির উদ্দেশ্য ছিল- ভারতকে যুদ্ধবিরতি মানতে বাধ্য করা, পাকিস্তানকে রক্ষা করা, মুক্তিযুদ্ধকে ধ্বংস করা। ৯ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট নিক্সন ইউএসএস এন্টারপ্রাইজকে বঙ্গোপসাগরে মোতায়ন করেন, যাকে ভারত সরকার পরমাণবিক যুদ্ধ শুরু করার হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে। এন্টারপ্রাইজ ১৯৭১ সালের ১১ ডিসেম্বর গন্তব্যে পৌঁছায়। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির জবাবে সোভিয়েত নৌ-বাহিনী ৬ ও ১৩ ডিসেম্বর নিউক্লিয়ার মিসাইলবাহী দুটি ডুবোজাহাজ ভ­াডিভস্টক থেকে বঙ্গোপসাগরে প্রেরণ করে, যারা ইউএস টাস্কফোর্স ৭৪-কে ১৮ ডিসেম্বর থেকে ৭ জানুয়ারি ১৯৭২ পর্যন্ত ভারত মহাসাগরে তাড়া করে বেড়ায়। যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য নৌ-যুদ্ধ পরিহার করার জন্য সপ্তম নৌবহর বঙ্গোপসাগর থেকে প্রত্যাহার করে নেয়। সেদিন যদি সোভিয়েত ইউনিয়ন নৌ-বহর প্রেরণ করে আমেরিকাকে সপ্তম নৌ-বহর প্রত্যাহারে বাধ্য না করতে পারত তাহলে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের জয়লাভ অনিশ্চিত হয়ে পড়ত। বাংলাদেশ হয়তো হতো ভিয়েতনাম অথবা নাইজেরিয়ার স্বাধীনতাকামী বায়াফ্রার মতো। লরেন্স লিফশুলজ তার আন ফিনিসড রেভ্যুলেশন গ্রন্থে লিখেন, মোশতাকের দলের সাথে আমেরিকার কর্মকর্তাদের কলকাতা ও অন্যান্য স্থানে ৮ টি গোপন বৈঠক হয়েছে। ১৯৭১ সালে জাতিসংঘে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খন্দকার মোশতাক আহমদ বাংলাদেশ বিষয়ে বক্তব্য পেশ করতে যাবেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রের কথা জানতে পেরে তার স্থলে বিচারপতি আবু সাঈদ চৌধুরীকে বাংলাদেশের দলের নেতা নির্বাচিত করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ দল নিউইর্য়ক যায়। এ ষড়যন্ত্র টের না পেলে স্বাধীনতা যুদ্ধের চরম ক্ষতি হয়ে যেত। একদিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতি ইন্দিরা গান্ধী ও প্রবাসী সরকার বাংলাদেশের স্বাধীনতার অভিষ্ঠ লক্ষ্যে পৌঁছার জন্য সারা বিশ্ব চষে বেড়াচ্ছেন আর অন্য দিকে প্রবাসী সরকারের ভেতরে আমেরিকার এজেন্টরা বাঙালির স্বাধীনতার স্বপ্নকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছেন। এ ষড়যন্ত্রেও কারণেই খন্দকার মোশতাককে পররাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের মতো গুরু দায়িত্ব থেকে সড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি তাকে নিস্ক্রীয় করে রাখা হয়। সে যা হোক একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার প্রায় এক দশক পর হেনরি কিসিঞ্জার তার স্মৃতিকথায় (১৯৭৯) লিখিছেন : “আমরা ভারতীয় ও আমেরিকার দীর্ঘ মেয়াদী স্বার্থকে সর্বক্ষণ বিবেচনা করেছি… এবং পূর্ববাংলা পাকিস্তানের একটি অংশ হিসাবে থাকুক_ এ ব্যাপারে আমরা জিদ করিনি” এবং “এর স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধীনতাকে সম্ভাব্য সমাধান হিসাবে গ্রহণ করেছিলাম।” অর্থাৎ তিনি দ্বৈততার আচরণে আসল সত্য আড়াল করার প্রয়াস পেয়েছিলেন। তাই তো তিনি লিখেছেন : “পদ্ধতির ক্ষেত্রে আমাদের মতপার্থক্য ছিল, লক্ষ্যে নয়।” কিন্তু কিসিঞ্জার কখনও পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সমালোচনা করে কোন দ্ব্যর্থবোধক বিবৃতি প্রদান করেননি। তিনি বরং সব সময় ইয়াহিয়া প্রশাসনকে সমর্থনের সর্বাত্মক ও সর্বোচ্চ প্রয়াস অব্যাহত রেখেছিলন। মুক্তিযুদ্ধে নয় মাসে তিনি কখনও পূর্বাবাংলার জনগণের দুঃখ-দুর্দশা কিংবা তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার বাস্তবায়নের সপক্ষে কোন অর্থপূর্ণ মন্তব্য করেননি। এছাড়া, আমেরিকা ইচ্ছা করলে শেখ মুজিবুর রহমানের মুক্তির ব্যাপারে চেষ্টা করতে পারত। এটি তাদের মোটেই অজানা ছিল না যে, মুজিবকে পাকিস্তানের কারাগারে রেখে পূর্ববাংলার জনগণের ন্যায়সঙ্গত গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার বাস্তব কোন উপায় নেই। এবং মাকিন যুক্তরাষ্ট্র তার সকল সরকারী বিবৃতিতে বলেছে পূর্ববাংলার সঙ্কট পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তারা জনগণের দুঃখ-দুর্দশা ও গণতান্ত্রিক অধিকারের কোন মূল্য দেয়নি। অনুরূপভাবে, আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রিচার্ড এম. নিক্সন তাঁর আত্মকথায় (১৯৭৮) লিখেছেন, “আমরা জানতাম ইয়াহিয়া খান পরিণামে হয়ত পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতার দাবির কাছে নতি স্বীকার করবেন।” তাহলে প্রশ্ন উঠতে পারে যে, যদি বাংলাদেশের অনিবার্য অভু্যদয়ের বিষয়টি নিঙ্ন প্রশাসনের জানাই থাকে তাহলে পূর্ববাংলার জনগণের অবর্ণনীয় দুঃখ-দুর্দশা দূরীকরণে তারা কেন ইতিবাচক কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। আসলে নিঙ্নের বিবেচনায় আমেরিকার বৃহত্তর স্বার্থ রক্ষায় বাংলাদেশের বলিদান অগ্রহণযোগ্য নয়। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে কিভাবে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়নকে এ ব্যাপারে বিরত রাখা যায়। অর্থাৎ কিছুতেই “ভণ্ডামিপূর্ণ ও দ্বিচারী ভারতকে (তাঁর ভাষায়) পাকিস্তান ভাঙ্গতে দেয়া হবে না এবং পাকিস্তানের বন্ধুরাষ্ট্র সমাজতান্ত্রিক চীনকে আশ্বস্ত করা যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সব সময় তার কৌশলগত মিত্রের প্রতি অঙ্গীকার রক্ষা করবে।” বাংলাদেশের ব্যাপারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে ধ্যান-ধারণা পোষণ করত তার সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই মার্কিন কংগ্রেসে ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বিদেশনীতি বিষয়ক যে প্রতিবেদন প্রদান করা হয় তাতে নিঙ্ন দাবি করেন যে, ইয়াহিয়া খান পূর্ববাংলার সর্বপ্রকার বিরোধিতা দমনে যেসকল ব্যবস্থা গ্রহণ করেছিলেন সেসব বিষয়ে তার প্রশাসন সম্যকভাবে অবহিত ছিল। ব্যবস্থাসমূহের মধ্যে রয়েছে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধকরণ, শেখ মুজিবুরের গ্রেফতার, পূর্ব পাকিস্তানের হাজার হাজার মানুষকে হত্যা, বেসামরিক প্রশাসনের কাঠামো ধ্বংস, দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা এবং জীবন বাঁচাতে অগণিত মানুষের ভারতে আশ্রয় গ্রহণ ইত্যাদি। একই প্রতিবেদনে নিঙ্ন দাবি করেন যে, “এটি একটি অগ্রবতর্ী সিদ্ধান্ত যে, যদি যুদ্ধ বাধে তাহলে ভারত জয়ী হবে।” যুদ্ধ বাধলে পাকিস্তান ভেঙ্গে যাবে, ভারত জয়ী হবে_ এসব বিষয় যদি আমেরিকার জানা থাকে তাহলে এহেন পরিস্থিতি পরিহার করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা আমেরিকা গ্রহণ করেনি কেন? বস্তুত, বাংলাদেশের বাস্তবতা আমেরিকা আমলে নেয়নি, কিংবা জনগণের মুক্তিসংগ্রামকে মূল্য দেয়নি। যদি তারা বাংলাদেশের বাস্তবতা মেনে নিত তাহলে হয়ত একাত্তরের এ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মাত্রা কম হতে পারত। এ সম্পর্কে ১৯৯৯ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর মার্ক ফিশার নামক ‘ওয়াশিংটন পোস্ট’ পত্রিকার এক প্রতিবেদক বলেন, নিক্সন আমেরিকার করুণাউদ্রেককারী একজন শঠ ব্যক্তি, যাকে দ্বিতীয় মহাযুদ্ধকালের জার্মানির হিটলারের সঙ্গে তুলনা করা যায়। বাংলাদেশে গণহত্যার বিষয়টি মনে রেখেই ফিশার নিশ্চয়ই এ মন্তব্য করেছেন। সূত্রঃ https://ahmadistiakferdaus.wordpress.com/2016/11/15/%E0%A6%AE%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%A6%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%87-%E0%A6%AF%E0%A7%81%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A6%BE%E0%A6%B7%E0%A7%8D%E0%A6%9F/