মুক্তিযোদ্ধা শহীদ নূর হোসেন (১৯৪৩-১৯৭৩)

Posted by Shahida Akhter
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেনের পৈত্রিক নিবাস ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার দরবারপুর ইউনিয়নের জগতপুর গ্রামে। তাঁর পিতা মরহুম যুদ্ধাহত মাষ্টার ইছহাক ভূঁইয়া এবং মা মরহুম সৈয়দা নজিরেরনেসা বেগম। নূর হোসেন ফেনী কলেজ থেকে আই.কম, চট্টগ্রাম কমার্স কলেজ থেকে বি.কম এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। কিছুদিন তিনি ফেনীর গঙ্গাধর মজুমদার হাট হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। ১৯৭১ সালে নূর হোসেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স-এ (পিআইএ) চাকরি করতেন। একাত্তরের মার্চে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে তিনি চাকরি ছেড়ে প্রথমে ফেনীর গ্রামের বাড়িতে চলে যান। ২৫ মার্চের পরেই তিনি ও তাঁর ছোট ভাই নূর উন নবী ঋষ্যমুখ সীমান্ত দিয়ে ভারতের ত্রিপুরায় যান। এফএফ (Freedom Fighter))-এর সদস্য হিসেবে নূর হোসেন শ্রীনগর ট্রেনিং ক্যাম্প থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং ১ নম্বর সেক্টরের ছাগলনাইয়া, পরশুরাম ও ফুলগাজীতে গেরিলা যুদ্ধ করেন। তাঁর স্ত্রী সৈয়দা জ্যোৎস্না আরা নূর হাসি স্বামীর সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দেন এবং ১ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেন। তাঁর ছোট ভাই নূর উন নবী ভূঁইয়া দেরাদুনে প্রশিক্ষণ নিয়ে যুদ্ধে যোগ দেন। তাঁদের পিতা মাষ্টার ইছহাক ভূঁইয়াকে পাকবাহিনী ধরে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে পঙ্গু করে দেয়। স্বাধীনতার পরে নূর হোসেন বাংলাদেশের প্রথম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। কিছুদিন রাজস্ব বিভাগে চট্টগ্রামে চাকরি করেন। পরে তিনি বাংলাদেশ বিমানে যোগ দেন এবং মৃত্যুর আগে পর্যন্ত এখানে কর্মরত ছিলেন। মুক্তিযোদ্ধা নূর হোসেন ছাত্রজীবন থেকেই সমাজ সচেতন এবং রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তিনি একজন ভালো সংগঠক ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক ছিলেন। এ ছাড়া ঢাকাস্থ ফেনী সমিতির তিনি ছিলেন কনভেনর। ১৯৭৩ সালের ২১ মে ঢাকায় একটি মিছিলে নূর হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিখোঁজ হন। তাঁকে আর পাওয়া যায়নি। তথ্যঃ মুক্তিযোদ্ধা নূর উন নবী ভূঁইয়ার সাক্ষাৎকার থেকে প্রাপ্ত।