মুয়াজ্জিন ছুতি মণ্ডলের বাড়িতে গণহত্যা

Posted by ???? ?????
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
অসংখ্য প্রাণের বিনিময়ে আমাদের পতাকা হয়েছে লাল-সবুজে গাঢ়-রঙিন। খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা লে. কর্নেল (অব.) কাজী সাজ্জাদ আলী জহির বীরপ্রতীকের প্রাসঙ্গিক বিবরণ চমকে ওঠার মতো। তিনি লিখেছেন, ‘ময়মনসিংহের ভালুকার প্রায় দুই কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত ৭ নম্বর মল্লিকবাড়ি ইউনিয়নের রূপী নদীর তীরের ভাণ্ডাব (বয়টাপাড়া) গ্রামের মসজিদের পেশ ইমাম ও স্থানীয় মাদ্রাসার শিক্ষক ছিলেন ছফির উদ্দিন মুন্সী। তিনি মিষ্টভাষী, নম্র-ভদ্র স্বভাবের সৎসাহসী ও সরল প্রকৃতির মানুষ। ১৯৭১ সালের ১৮ জুলাই মঙ্গলবার মুয়াজ্জিন ছুতি মণ্ডলের কণ্ঠে ধ্বনিত হচ্ছিল ‘আশ্হাদু আন লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ...’ ছফির উদ্দিন মুন্সী নিচ্ছিলেন নামাজের প্রস্তুতি। হানাদার বাহিনী আর ওদের উচ্ছিষ্টভোগী চেলা-চামুণ্ডারা ছুতি মণ্ডলকে গুরুতর আহত-অচেতন করলে তাঁর আর ফজরের আজান শেষ করা হলো না। ওরা ইমাম ছফির উদ্দিন মুন্সীর বাড়িতে হামলা চালায়। ওরা একে একে চার সন্তানের জনক ছফির উদ্দিন মুন্সী ও তাঁর স্ত্রী নসিমন্নেসা, ভাই ডাক্তার সামাদ, তাঁর স্ত্রী খাদিজা বেগম ও সামাদের পুত্র আবদুল করিমকে গুলি করে হত্যা করে। ওরা রক্তাক্ত লাশসহ বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে ঘরের পাঁচটি কোরআন শরিফ ও ধর্মীয় কিতাব জ্বলে যায়। পরে লাশগুলোও শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। অথচ তাঁদের অপরাধ ছিল একটাই—ছফির উদ্দিন মুন্সী মুক্তিযোদ্ধাদের সংবাদ সরবরাহ করতেন। তাঁদের সাধ্যমতো সাহায্য করতেন। আজও কেউ জানল না, কেন মসজিদের ইমাম ও মাদ্রাসা শিক্ষক ছফির উদ্দিন মুন্সী এবং পরিবারের পাঁচজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে তাঁদের লাশগুলো পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। ভাণ্ডব মসজিদের পাশেই রয়েছে পাঁচ শহীদের সমাধি। নির্মম এ গণহত্যার সাক্ষী শুধু দেয়ালে খোদাই করা নাম ও পাশে বয়ে চলা রূপী নদী। (সূত্র : বাংলাদেশ বেতার, দর্পণ ম্যাগাজিন, ১২-০৩-১৭ ও দৈনিক ভোরের কাগজ, ০৭ মার্চ ২০১৭)