শফিকুন নূর মওলা বীর প্রতীক

Posted by Ashikur Rahaman Sajib
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা: ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তৃতীয় সপ্তাহের একদিন চট্টগ্রাম নৌবন্দরের বহির্নোঙ্গরে দুঃসাহসী এক অপারেশনের জন্য নৌকমান্ডোরা রেকি করেছিলেন। কিন্তু রেকিতে তাঁদের একটা বড় ভুল হয় এবং সেটা হলো দূরত্বের হিসাব। তাঁরা অনুমান করেছিলেন বহির্নোঙ্গরের দূরত্ব দেড়-দুই মাইলের বেশি হবে না। কিন্তু বাস্তবে এই দূরত্ব ছিল তিন-চারগুণেরও বেশি। জলপথের দূরত্ব হিসাব করার ব্যাপারে তাঁরা অভিজ্ঞ ছিলেন না। নৌকামান্ডোরা তাঁদের অজ্ঞাতেই বিরাট এই ভুল করে ফেলেন। সহযোদ্ধা নৌকমান্ডোদের সঙ্গে এস এম মওলা সাঁতার কেটে যেতে থাকলেন সমুদ্রের গভীরে। পানির মধ্যে তাঁদের পায়ের ফিনস অনবরত ওঠানামা করছিলো। এক ঘণ্টার বেশি সময় সাঁতরিয়ে তাঁরা মাথা তুলে তাকালেন লক্ষ্যস্থলের দিকে। দেখলেন লক্ষ্যস্থল তখনো অনেক দূরে। আরও আধা ঘণ্টা সবাই সমানতালে সাঁতার কাটলেন। তার পরও দূরত্ব কমল না। ক্লান্ত হয়ে গেলেন তাঁরা। সামনে কিংবা পেছনে যাওয়ার শক্তিও হারিয়ে ফেলেছেন। চরম দুঃসাহস প্রদর্শন করেও ব্যর্থ হলেন তাঁরা। এস এম মাওলাসহ দুঃসাহসী নয়জন নৌকমান্ডো রাতে ভাটার সময় সমুদ্রের পানিতে নেমে লক্ষ্যস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করেন। কিন্তু দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় সাঁতরেও তাঁরা সেখানে পৌঁছাতে পারেননি। দেড় ঘণ্টা ধরে একটানা সাঁতরানোর পর এতই ক্লান্ত হয়ে পড়েন যে তাঁরা সামনে বা পেছনে ফেরার শক্তিও হারিয়ে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তাঁদের অভিযান শেষ হয় ট্র্যাজিক ঘটনার মধ্য দিয়ে। পরে জোয়ারের প্রবল ধাক্কায় পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ে বিপর্যস্ত অবস্থায় সমুদ্রের তীরে পৌঁছান। তখন তাঁদের অনেকের জ্ঞান ছিল না। নয়জনের মধ্যে এস এম মওলাসহ চারজন মৃতপ্রায় অবস্থায় যেখানে ভেসে ওঠেন সেখানে ছিল সশস্ত্র প্রহরা। পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের দেখে ফেলে। সেনারা তাঁদের আটক করে। তাঁদের ব্যাপক নির্যাতন ও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। নির্যাতনে একজন (মোহাম্মদ হোসেন, বীর প্রতীক) মারা যান। এস এম মওলাসহ তিনজনকে পরে ঢাকা সেনানিবাসে পাঠানো হয়। এখানেও চলে তাঁদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন। স্বাধীনতার পর তাঁরা ছাড়া পান। ------উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে