শফিকুর রহমান বীর মুক্তিযোদ্ধা

Posted by Ashikur Rahaman Sajib
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা: ১৯৭১ সালের ৩১ জুলাই জামালপুর জেলার বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুরে ছিলো বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই সীমান্তচৌকি ঘিরে তৈরি করে দুর্ভেদ্য এক ঘাঁটি। সেদিন মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ওই ঘাঁটিতে আক্রমণ করে। এই যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম) ও সালাহউদ্দীন মমতাজ (বীর উত্তম) নেতৃত্ব দেন। সেখানে তখন গোলাগুলির শব্দে গোটা এলাকা প্রকম্পিত। বৃষ্টির মতো শত শত গুলি ধেয়ে আসছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষা অবস্থান থেকে। গোলাও এসে পড়ছে। বিরামহীন গোলাবর্ষণ। শফিকুর রহমান ও তাঁর সহযোদ্ধারা ভীতসন্ত্রস্ত হলেন না। অধিনায়কের নির্দেশ পেয়ে গোলাগুলি উপেক্ষা করে সাহসিকতার সঙ্গে তাঁরা এগিয়ে যেতে থাকলেন সামনে। ঢুকে পড়লেন পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর প্রতিরক্ষার ভেতর। এমন সময় হঠাৎ একটি গোলা এসে পড়ল শফিকুর রহমানের পাশে। বিস্ফোরিত গোলার বড় এক স্প্লিন্টার আঘাত করল তাঁর বাঁ হাতে। নিমেষে উড়ে গেল তাঁর হাতের সামনের অংশ। গুরুতর আহত শফিকুর রহমান লুটিয়ে পড়লেন মাটিতে। এই আক্রমণ ও যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর পক্ষে একজন অফিসারসহ ৩১ জন যোদ্ধা শহীদ ও দুজন জুনিয়র কমিশন অফিসারসহ ৬৫ জন আহত হয়। আর শত্রুপক্ষের ৫০ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়। ওই আক্রমণ যদিও পুরোপুরি সফল হয়নি, তবুও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এটা একটা স্মরণীয় আক্রমণ ছিল। শফিকুর রহমান ওই যুদ্ধে আহত হওয়ার পর সহযোদ্ধারা তাঁকে যুদ্ধক্ষেত্র থেকে উদ্ধার করে পাঠিয়ে দেন ফিল্ড হাসপাতালে। পরে ভারতে তাঁর চিকিৎসা হয়। -----উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে