শ্যামপুর গণহত্যা

Posted by আরিফ রহমান
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালিন ৮ই অক্টোবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে পাকবাহীনিরা আমাদের বাড়ির দরজা ভেঙ্গে আমার বাবা আব্দুল বারী চৌধুরীকে বাড়ি উঠানে দাঁড় করিয়ে বুকে অস্ত্র ধরে বলতে বলে বল পাকিস্থান জিন্দাবাদ প্রতিউত্তরে আমার বাবা বলেছিলেন, জয়-বাংলা, জয়-বঙ্গবন্ধু তিনবার তাদের প্রশ্নের উত্তরে এই প্রতিউত্তর দেওয়ার ফলে প্রায় ১ ডজন গুলি করে আমার বাবার দেহটাকে ঝাঝরা করে ফেলে চলে যাই পাকবাহীনিরা। তখন আমি ৮ বছরের শিশু নিরবে তাকিয়ে থাকলাম কিছুই করতে পারিনি। মা সুরুজ জাহান চৌধুরী এই সময় প্রতিবাদ করলে স্বারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্চিত হন তিনি। স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও সারাক্ষন সেই দৃশ্য চোখের সামনে ভেষে উঠলে অসহ্য যন্ত্রনা হয়, কান্না জর্জরিত কন্ঠে কথাগুলো বললেন, শহীদ আব্দুল বারী চৌধুরীর বড় সন্তান আবু হায়দার চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, আমার বাবাকে হত্যার পর দাফনের জন্য শান্তি কমিটির সদস্য গোফরা জোলা (বর্তমান মৃত)-র নিকট জানাজা ও দাফনের জন্য অনুরোধ করলেও তিনি অগ্রাহ্য করে তিনি আমাদের বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন। কিন্তু আমার বাবার শখের বিদেশী কুকুর (কলকাতা ব্যান্ডেল) থেকে কিনে আনা “জিপ্পী” তিন দিন ধরে আমার বাবার ক্ষতবিক্ষত লাশ পাহাড়া দিয়েছিল। তিন দিন পরে রাতের অন্ধকারে আমার আত্মীয়রা গোপনে জানাজা, কাফন ও পাটাতন ছাড়াই দাফন করে হয় আমার বাবাকে। ঘটনাটি ঘটেছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের বাজিতপুর গ্রামে। শহীদ আব্দুল বারী চৌধুরী ছিলেন, সনামধোন্য চৌধুরী পরিবারের সন্তান। তিনি ই,পি,আর বাহীনির কর্মকর্তা ছিলেন। তিনি ১৯৬৪ সালে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের খারাপ আচনের কারনে স্ব-ইচ্ছাই চাকুরী ছেড়ে চলে আসেন। ১৯৬৯ সালে বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় আসামী করায় ক্ষোব ও তিব্র নিন্দা প্রকাশ করেছিলেন বলে একই এলাকার বাজিতপুর গ্রামের রাজাকার শাহজাহানের উপস্থিতিতে পাকবাহীনিরা এই নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলেন। তথ্যসুত্রঃ http://www.bijoynewsbd24.com/%E0%A7%AE%E0%A6%87-%E0%A6%85%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%9F%E0%A7%8B%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%A4-%E0%A6%B9%E0%A6%B2%E0%A7%8B-%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%B6/