শরফুদ্দীন আহমেদ একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা

Posted by Ashikur Rahaman Sajib
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা ১৯৭১ সালের ৫ ডিসেম্বর কুশিয়ারা নদীর তীরে ভারতের ছোট এক বিমান ক্ষেত্র থেকে আকাশে উড়ল ছোট একটি বিমান—‘অটার’। বিমানের চালকের আসনে শরফুদ্দীন আহমেদ ও আকরাম আহমেদ (বীর উত্তম)। আরও আছেন একজন গানার। বিমানে আছে রকেট ও মেশিনগান। স্বল্পগতির বিমানটি সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে এগিয়ে যেতে থাকল লক্ষ্যস্থলের দিকে। শরফুদ্দীন আহমেদ ও আকরাম আহমেদ যতটা সম্ভব কৌশলে বিমান চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একসময় তাঁরা পৌঁছে গেলেন লক্ষ্যস্থলে। তারপর আকাশের নির্দিষ্ট স্থানে বারবার চক্কর দিয়ে কয়েকটি রকেট ছুড়লেন। একই সময় গানার মেশিনগান দিয়ে গুলি করলেন। নিচে ভূমিতে থাকা পাকিস্তানি সেনারা জীবন বাঁচাতে ছোটাছুটি করতে থাকল। বিস্ফোরিত রকেটের স্প্লিন্টার ও গুলিতে নিহত এবং আহত হলো অনেক পাকিস্তানি সেনা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনী মিত্রবাহিনীর সহযোগিতায় বৃহত্তর সিলেট মুক্ত করার জন্য যৌথভাবে অভিযান শুরু করে। তাঁরা সীমান্ত অতিক্রম করে আটগ্রাম-চরখাই-সিলেট, জাফলং-ছোটখেল-গোয়াইনঘাট-কোম্পানিগঞ্জ-সালুটিকর-সিলেট এবং ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ-লামাকাজিঘাট-সিলেট অক্ষ ধরে অগ্রসর হতে থাকেন। এ সময় পাকিস্তানি সেনারা সীমান্ত এলাকা থেকে পশ্চাদপসরণ করে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেয়। তারা মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে প্রবল বাধা দিতে থাকে। এতে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর অগ্রযাত্রা শ্লথ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় পাকিস্তানি অবস্থানে বিমান থেকে হামলার প্রয়োজন হয়। তখন মুক্তিবাহিনীর নবগঠিত বিমান উইং পাকিস্তানি অবস্থানের ওপর বিমান থেকে হামলা করে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীকে সাহায্য করতে থাকে। কুশিয়ারা নদীর তীরে এক স্থানে পাকিস্তানিরা বিপুল সেনা সমাবেশ ঘটায়। ওই পথ দিয়ে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যোদ্ধারা অগ্রসর হচ্ছিলেন। শরফুদ্দীন আহমেদ ও আকরাম আহমেদ সাহসিকতার সঙ্গে পাকিস্তানি অবস্থানে হামলা চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেন। বিমান হামলায় বিপুলসংখ্যক পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। আহতও হয় অনেক। এরপর পাকিস্তানি সেনাদের মনোবল ভেঙে পড়ে। সেদিন ওই বিমান হামলা পরিচালনা ছিল যথেষ্ট ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, স্বল্পগতির অটার বিমানটি যেকোনো সময় পাকিস্তানি সেনাদের মেশিনগানের গুলিতে ভূপতিত হতে পারত। ------উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে