শহীদ আফসার আলী

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ২১ নভেম্বর ফেনী জেলার বিলোনিয়ার বেশির ভাগ এলাকা মুক্ত হয়। আবদুর রব চৌধুরীসহ মুক্তিযোদ্ধারা অগ্রসর হন ফেনী অভিমুখে। তাঁরা প্রথমে বিলোনিয়ার মুখ বরাবর বান্দুয়া-পাঠাননগরে অবস্থান নিয়ে ওই এলাকা ব্লক করেন। তাঁদের সঙ্গে মিত্রবাহিনীর জাঠ ও মারাঠা রেজিমেন্টের সেনারা ছিলেন। পাঠাননগর-বান্দুয়া ছিল সীমান্ত এলাকায় মিত্রবাহিনীর পরিকল্পনা ছিল সীমান্তে ট্যাংকসহ অন্যান্য ভারী সামরিক যানবাহনের সরব চলাচল ও সেনা সমাবেশের মাধ্যমে পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে বিস্মিত করা। এতে করে তারা হকচকিত হয়ে পড়ে। মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে মিত্রবাহিনীর জাঠ রেজিমেন্টের সেনারা পশ্চিম সীমান্ত ও মারাঠা রেজিমেন্টের সেনারা পূর্ব সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। কিন্তু পাকিস্তান সেনাবাহিনী মিত্রবাহিনীর অবস্থান বুঝে ফেলে। তারা দ্রুতগতিতে ফেনীর উত্তরে বিলোনিয়ার মুখ বরাবর দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা লাইন তৈরি করে। এ ছাড়া ছাগলনাইয়া-ফেনীর মাঝামাঝি ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর শক্ত আরেক প্রতিরক্ষা। বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে ছিল পাকিস্তানি সেনাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান। দুই পক্ষে গুলিবিনিময় এবং থেমে থেমে কয়েক দিন যুদ্ধ চলে। কখনো পাকিস্তানি সেনারা মুক্তিযোদ্ধা বা মিত্র বাহিনীর অবস্থানে ঝটিকা আক্রমণ চালায় আবার কখনো মুক্তিযোদ্ধা বা মিত্র বাহিনীর সেনারা। এরই ধারাবাহিকতায় ৪ ও ৫ ডিসেম্বর ওই এলাকায় তুমুল পাল্টাপাল্টি যুদ্ধ হয়। আবদুর রব চৌধুরী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধাদের একটি উপদলের দলনেতা হিসেবে ৫ ডিসেম্বর সহযোদ্ধাদের নিয়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এক অবস্থানে আক্রমণ চালান। তখন সেখানে দুই পক্ষে তুমুল যুদ্ধ হয়। কয়েক ঘণ্টা ধরে যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ চলাবস্থায় হঠাৎ আবদুর রব চৌধুরী গুলিবিদ্ধ হন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ছোড়া একঝাঁক (ব্রাশফায়ার) গুলির পাঁচটি গুলি লাগে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে। আহত হয়েও আবদুর রব চৌধুরী দমে যাননি। প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে থেকেই নেতৃত্ব দিতে থাকেন। সহযোদ্ধারা অণুরোধ করা সত্ত্বেও যুদ্ধক্ষেত্র ছেড়ে যাননি। কিন্তু একসময় অধিক রক্তক্ষরণে তিনি নেতিয়ে পড়েন। সহযোদ্ধারা তাঁকে দ্রুত পাঠিয়ে দেন চিকিৎসকের কাছে। কিন্তু পথেই নিভে যায় তাঁর জীবনপ্রদীপ। আবদুর রব চৌধুরীকে সমাহিত করা হয় তাঁর গ্রামের বাড়িতে। তাঁর অন্তিম ইচ্ছা অণুযায়ী কয়েকজন সহযোদ্ধা মরদেহ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে নেওয়ার পর তাঁরা যথাযোগ্য মর্যাদায় মরদেহ সমাহিত করেন।