শহীদ উল্লাহ বীর মুক্তিযোদ্ধা

Posted by Ashikur Rahaman Sajib
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
মুক্তিযুদ্ধে ভূমিকা: ১৯৭১ সালের ১ থেকে ৩ ডিসেম্বর তীব্র শীত, অন্ধকার ও কুয়াশার বাধা উপেক্ষা করে মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যেতে থাকলেন সামনে। তাঁরা কয়েকটি দলে বিভক্ত। একটি দলে আছেন শহীদ উল্লাহ। রাত আনুমানিক ১১টা। তাঁরা সমবেত হলেন সিঙ্গারবিলের অদূরে। একটু পর নির্ধারিত সময়েই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর অবস্থানে শুরু হলো গোলাবর্ষণ। এই গোলা আসছে তাঁদের পেছন থেকে। ভারতীয় সেনাবাহিনীর গোলন্দাজ ব্যাটারি সীমান্ত থেকে দূরপাল্লার কামানের গোলাবর্ষণ করছে। এর প্রচণ্ডতা ও তীব্রতা এমন যে, মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের নিচের মাটি কেঁপে উঠছে। বিকট শব্দে কানের পর্দা ফেটে যাওয়ার উপক্রম। গোলাবর্ষণের সহায়তায় শহীদ উল্লাহ এবং তাঁর সহযোদ্ধারা আবার এগিয়ে যেতে থাকলেন। তাঁদের লক্ষ্য সিঙ্গারবিল রেলস্টেশন দখল করা। একটু পর তাঁরা পৌঁছে গেলেন লক্ষ্যস্থলের আনুমানিক ৪০০ গজ দূরে। তখন পূর্বপরিকল্পনা অনুসারে সীমান্ত এলাকা থেকে গোলাবর্ষণ বন্ধ হয়ে গেল। এদিকে ব্যাপক গোলাবর্ষণে পাকিস্তানি সেনারা ভীতসন্ত্রস্ত। তাদের প্রতিরক্ষা অবস্থান প্রায় তছনছ। এই সুযোগে মুক্তিযোদ্ধারা ঝাঁপিয়ে পড়লেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ওপর। নিমেষে মুক্তিযোদ্ধা ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মধ্যে শুরু হয়ে গেল মেশিনগান, এলএমজি আর রাইফেলের অবিরাম গোলাগুলি। কুয়াশা আর শীতের মধ্যে যুদ্ধ করা বেশ কষ্ট। সব উপেক্ষা করে শহীদ উল্লাহ ও তাঁর সহযোদ্ধারা সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে থাকলেন। তাঁদের সাহসিকতায় হতোদ্যম পাকিস্তানি সেনারা ভোররাতে পালিয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে এল সিঙ্গারবিল। এরপর মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যেতে থাকলেন আজমপুর রেলস্টেশন অভিমুখে। তুমুল যুদ্ধের পর বিকেলের মধ্যে আজমপুর রেলস্টেশনও তাঁরা দখল করে ফেললেন। সেখানে থাকা পাকিস্তানি সেনারাও বিপুল ক্ষয়ক্ষতির মুখে তখন পালিয়ে গেল। মধ্যরাতে পরিশ্রান্ত মুক্তিযোদ্ধারা কেউ ঘুমিয়ে, কেউ জেগে। এমন সময় হঠাৎ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর পাল্টা আক্রমণ। পুনঃসংগঠিত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ বেশ জোরালো। মুক্তিযোদ্ধারা বিক্রমের সঙ্গে যুদ্ধ করেও ব্যর্থ হলেন। আজমপুর রেলস্টেশন তাঁদের হাতছাড়া হয়ে গেল। মুক্তিযোদ্ধারা এতে মনোবল হারালেন না। পরদিন পুনঃসংগঠিত হয়ে আক্রমণ চালালেন সেখানে। তুমুল যুদ্ধের পর আবার দখল করলেন আজমপুর রেলস্টেশন। পাকিস্তানি সেনারা একেবারে পালিয়ে গেল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার দিকে। -------উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে