শহীদ তারা উদ্দিন

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে চারদিকে বিজয়ের বাতাস। প্রতিদিন মুক্তিবাহিনীর হাতে মুক্ত হচ্ছে দেশের একেকটি এলাকা। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত থেকে সিলেট অভিমুখে বীরদর্পে এগিয়ে যাচ্ছেন মুক্তিযোদ্ধারা। ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জে অবস্থান নিয়েছে মুক্তিবাহিনীর কয়েকটি দল। একটি দলে ছিলেন তারা উদ্দিন। এই দলের নেতৃত্বে ছিলেন ক্যাপ্টেন আনোয়ার। তাঁদের অবস্থান পাকিস্তানিদের অবস্থান থেকে ৫০০-৬০০ গজ দূরে। ভোররাতে শুরু হলো ভয়াবহ যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধারা জয় বাংলা ধ্বনি আর গুলি করতে করতে সামনে এগোতে থাকলেন। একপর্যায়ে শুরু হলো হাতাহাতি যুদ্ধ। সকালবেলা দেখা গেল, পাকিস্তানিরা পালিয়ে যাচ্ছে। মুক্তিযোদ্ধারা এগিয়ে যেতে থাকলেন। কিন্তু এক স্থানে হঠাৎ থেমে গেল তাঁদের পদযাত্রা। সুনামগঞ্জ-সিলেট সড়কের ছাতক অংশের এক তেমাথায় ছিল পাকিস্তানিদের আরেকটি প্রতিরক্ষা অবস্থান। এখানে অবস্থানরত পাকিস্তানি সেনাদের কোনো অবস্থাতেই হটানো যাচ্ছে না। ১৫ ডিসেম্বর সারা দিন সেখানে যুদ্ধ চলল। পাকিস্তানিরা সেখানে সুবিধাজনক অবস্থায় ছিল। পরদিন ১৬ ডিসেম্বর সকাল থেকে শুরু হলো আবার যুদ্ধ। সেদিন পাকিস্তানিদের একটি গোলা এসে পড়ে তারা উদ্দিনে বাংকারে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি শহীদ হন। সেদিন আরও কয়েকজন মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানিদের গোলায় প্রাণ হারান। শহীদ তারা উদ্দিন ও অন্য শহীদদের যুদ্ধক্ষেত্রের পাশেই পীরেরটিলা নামক স্থানে সমাহিত করা হয়। সেই স্থানটি চিহ্নিত করা আছে। সিলেটের ওই স্থানে ১৮ ডিসেম্বর সকাল পর্যন্ত যুদ্ধ হয়। সেদিন দুপুরের পর পাকিস্তানিদের ওই অবস্থান মুক্তিযোদ্ধারা দখল করতে সক্ষম হন। যুদ্ধে ওখানে থাকা বেশির ভাগ পাকিস্তানি নিহত হয়। বাকিরা আত্মসমর্পণ করে।