শহীদ বাচ্চু মিয়া

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত আশুগঞ্জ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত আশুগঞ্জ মুক্ত ছিল। এ সময় বাচ্চু মিয়াসহ একদল মুক্তিযোদ্ধা পাকিস্তান সেনাবাহিনীকে প্রতিরোধের জন্য আশুগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে প্রতিরক্ষা অবস্থান নেন। তাঁরা ছিলেন ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট, ইপিআর, মুজাহিদ, আনসার, পুলিশ ও ছাত্র-যুবক সমন্বয়ে গড়া। তাঁদের সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন আইন উদ্দিন (বীর প্রতীক)। পাকিস্তান সেনাবাহিনী আশুগঞ্জ দখলের জন্য ১৩ এপ্রিল ব্যাপক অভিযান শুরু করে। সড়কপথে বিপুলসংখ্যক সেনা ভৈরবে উপস্থিত হয়। আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রের পেছনের মাঠে হেলিকপ্টারে কমান্ডো ব্যাটালিয়নের প্রায় এক কোম্পানি সেনা নামে। গানবোট ও অ্যাসল্ট ক্রাফটের সাহায্যে নদীপথে সেনা আসে। এ ছাড়া জঙ্গি বিমান ও আর্টিলারির কাভারিং ফায়ারের মাধ্যমে ভৈরব-আশুগঞ্জ রেলসেতুর ওপর দিয়েও সেনারা অগ্রসর হয়। আশুগঞ্জে মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন প্রায় ২০০ জন। অর্ধেকই স্বল্প প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ তাঁরা বিক্রমের সঙ্গে মোকাবিলা করেন। কিন্তু জল-স্থল-আকাশপথের ত্রিমুখী সাঁড়াশি আক্রমণে তাঁরা সেখানে টিকতে পারেননি। বীরত্ব ও সাহসিকতার সঙ্গে যুদ্ধ করেও তাঁরা ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি স্বীকার করে তাঁদের পিছু হটতে হয়। বাচ্চু মিয়া সোনারামপুর ওয়াপদা বাঁধসংলগ্ন এক পরিখায় (ট্রেঞ্চ) ছিলেন। সেখানে তিনিসহ মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন ১১ জন। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আক্রমণ তাঁরা সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করেন। অনেকক্ষণ তাঁরা পাকিস্তানি সেনাদের ঠেকিয়ে রাখেন। একপর্যায়ে পাকিস্তানিদের প্রচণ্ড আক্রমণের মুখে তাঁরাও জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পড়েন। তখন তাঁর বেশির ভাগ সহযোদ্ধা জীবন বাঁচাতে পিছু হটেন। কিন্তু বাচ্চু মিয়া ও তাঁর দুই সহযোদ্ধা পিছু হটেননি। তাঁরা নিজ নিজ পরিখার মধ্যে থেকে সম্মুখযুদ্ধ করেন। এ সময় তাঁরা তিনজনই গুলিতে আহত হন। আহত অবস্থায় বাচ্চু মিয়া ‘শেষ ব্যক্তি, শেষ গুলি’ পর্যন্ত আরও কিছুক্ষণ লড়াই করেন। কিন্তু তাঁর অস্ত্রের গুলি শেষ হয়ে যায়। তখন পাকিস্তানি সেনারা তাঁকে ও তাঁর দুই সহযোদ্ধাকে আটক এবং বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। তাঁদের মরদেহ সহযোদ্ধারা উদ্ধার করতে পারেননি।