শহীদ মজিবুর রহমান

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সরাইল উপজেলার পূর্বদিকে শাহবাজপুরের পাশেই ছিল চান্দুরা। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে মুক্তিবাহিনীর এস ফোর্সের ১১ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সীমান্ত এলাকা থেকে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর ভোরে সেখানে পৌঁছায়। বিকেলে তাঁদের সঙ্গে যোগ দেন এস ফোর্স অধিনায়ক কে এম সফিউল্লাহ (বীর উত্তম)। মুক্তিবাহিনীর একটি দল যখন ইসলামপুরে পৌঁছায়, তখন সেখানে পেছন থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দুটি মিলিটারি লরি অপ্রত্যাশিতভাবে হাজির হয়। লরিতে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ফ্রন্টিয়ার ফোর্সের ১৪-১৫ জন সেনা। তখন কে এম সফিউল্লাহও সেখানে ছিলেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পাকিস্তানি সেনাদের আত্মসমর্পণের আদেশ দেন। তারা অস্ত্রসহ হাত উঁচু করে লরি থেকে লাফ দিয়ে নেমে হঠাৎ মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্য করে গুলি করতে থাকে। কয়েক মিনিট পর পেছন থেকে পাকিস্তানি সেনাভর্তি আর একটি বাস সেখানে আসে। এরপর শুরু হয়ে যায় ভয়াবহ যুদ্ধ। পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণের প্রচণ্ডতায় মুক্তিবাহিনীর দলটি কিছুটা বিশৃঙ্খল ও নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে। মজিবুর রহমান ছিলেন এক কোম্পানি। তাঁদের একটি প্লাটুন জীবন বাঁচাতে পার্শ্ববর্তী নদীর অপর পারে আশ্রয় নেয়। বাকি দুই প্লাটুনের একটি বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। মাত্র একটি প্লাটুন সাহসিকতা ও বীরত্বের সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের মোকাবিলা করতে থাকে। এই প্লাটুনেই ছিলেন মজিবুর রহমান। এ সময় কয়েকটি গুলি হঠাৎ এসে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে লাগে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢলে পড়েন মৃত্যুর কোলে। সেদিন সেখানে মুক্তিবাহিনীর মজিবুর রহমানসহ আরেকজন শহীদ এবং এ এস এম নাসিম (বীর বিক্রম) ও মঈনুল হোসেনসহ ১১-১২ জন আহত হন। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাদের ২৫ জন নিহত ও ১৪ জন বন্দী হয়। বাকিরা রাতের অন্ধকারে পালিয়ে যায়। যুদ্ধশেষে শহীদ মজিবুর রহমান ও তাঁর আরেক শহীদ সহযোদ্ধাকে সমাহিত করা হয় চান্দুরা সেতুর পাশে। কবর দুটি চিহ্নিত আছে।