শহীদ মনিরুজ্জামান খান

Posted by AL Amin Khan
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.
সীমান্ত এলাকায় অন্যত্র টহলে ছিলেন মনিরুজ্জামান খান। সীমান্তের ওপারে ঘাঁটিতে ফিরতেই খবর পেলেন, যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের অন্তর্গত কাশিপুরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দলের সঙ্গে মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করছেন। সেখানে প্রচণ্ড যুদ্ধ চলছে। এ খবর পেয়ে সাহসী মুক্তিযোদ্ধা মনিরুজ্জামান বসে থাকতে পারলেন না। যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যার্থে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রওনা হলেন সেদিকে। ইউনিয়নের মাঝ দিয়ে কপোতাক্ষ নদ। কাশিপুরে আছে একটি সেতু। পাকিস্তান সেনাবাহিনী প্রায়ই ওই সেতু দিয়ে সীমান্ত এলাকায় যায়। ১৯৭১ সালের ২৭ জুনেও আসে একদল পাকিস্তানি সেনা। সেদিন তারা সংখ্যায় ছিল বিপুল। সেতুর ওপারে গাড়ি রেখে তারা ছড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন দিকে। সীমান্ত এলাকায় অবস্থানরত মুক্তিযোদ্ধারা পাকিস্তানি সেনাদের আক্রমণ করেন। কাশিপুরের বিভিন্ন স্থানে যুদ্ধ চলতে থাকে। এদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের তাড়া খেয়ে কাশিপুরে এক জঙ্গলে লুকিয়ে ছিল কয়েকজন পাকিস্তানি সেনা। তার পাশ দিয়েই মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে আসছিলেন মনিরুজ্জামান খান। ওখানে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনারা তাঁদের আক্রমণ করে। আকস্মিক এ আক্রমণের জন্য প্রস্তুত ছিলেন না তাঁরা। আসার পথে খবর পেয়েছেন পাকিস্তানি সেনারা গঙ্গানন্দপুরের দিকে পালিয়ে গেছে। এ জন্য তিনি ও তাঁর সহযোদ্ধারা প্রথমে কিছুটা বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন। মনে করলেন মুক্তিযোদ্ধারাই ভুল করে তাঁদের পাকিস্তানি সেনা মনে করে আক্রমণ করেছেন। কারণ, তাঁদের এবং পাকিস্তানি সেনাদের পোশাক একই রকমের। পরে তাঁরা বুঝতে পারলেন এরা আসলেই পাকিস্তানি সেনা। তখন সাহসী মনিরুজ্জামান পাল্টা গুলি করে জঙ্গলের ভেতরে ঢুকে পড়েন। তিনি ছিলেন সবার সামনে। পেছনে তাঁর সহযোদ্ধারা। মনিরুজ্জামান অত্যন্ত ক্ষিপ্রতার সঙ্গে গুলি করতে করতে চলে যান বেশ আগে। আর ঠিক তখনই পাকিস্তানি সেনাদের ছোড়া কয়েকটি গুলি এসে লাগে তাঁর বুকে। সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢলে পড়েন মাটিতে। শহীদ হন মনিরুজ্জামান খান। ঘটনার আকস্মিকতায় এবং দলনেতাকে হারিয়ে তাঁর সহযোদ্ধারা কিছুটা হতবিহ্বল হয়ে পড়েন। এ সুযোগে সেখানে লুকিয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনারা পালিয়ে যায়। মনিরুজ্জামান খানের শহীদ হওয়ার ঘটনা মুক্তিযোদ্ধাদের মনে বেশ দাগ কাটে। পরে সহযোদ্ধারা তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে সমাহিত করেন কাশিপুরে। সেখানে তাঁর কবর সংরক্ষিত