শহীদ মোহাম্মদ দৌলত হোসেন মোল্লা

Posted by Md. AL AMIN
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর পদ্মা ও পলাশ নামে দুটি জাহাজ ভারত থেকে রওনা হয়ে খুলনা শিপইয়ার্ডের কাছে পৌঁছে। জাহাজ দুটি রওনা করে ৭ ডিসেম্বর। মিত্রবাহিনীর বিমান শত্রু পাকিস্তানিদের জাহাজ ভেবে ভুল করে পদ্মা ও পলাশ জাহাজে বোমাবর্ষণ করে। আত্মঘাতী এই বোমা হামলায় দুটি জাহাজই ডুবে যায়। এতে অনেক নৌমুক্তিযোদ্ধা শহীদ ও গুরুতর আহত হন। গুরুতর আহত মো. দৌলত হোসেন মোল্লা, রুহুল আমিন (বীরশ্রেষ্ঠ), সিরাজুল মওলা (বীর উত্তম), আফজাল মিয়া (বীর উত্তম)সহ আরও কয়েকজন সাঁতরে নদীতীরে যান। কিন্তু সেখানে তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছিল আরেক বিপদ। নদীতীরের বিভিন্ন স্থানে ছিল পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সহযোগী রাজাকার। মো. দৌলত হোসেন মোল্লা নদীতীরের যে স্থানে পৌঁছাতে সক্ষম হন, সেখানে তিনি একটু পর দেখতে পান তাঁর সহযোদ্ধা আহত সিরাজুল মওলাকে। আহত দৌলত হোসেন নদীতীরে পড়ে ছিলেন। তিনি মারাত্মক আহত হয়েছিলেন। ক্রলিং করে বা হেঁটে যেতে পারছিলেন না। আহত মওলা চেষ্টা করেছিলেন মো. দৌলত হোসেন মোল্লাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু পারেননি। মওলা সামনে যেতে সক্ষম হন। তিনি বেঁচে যান। মো. দৌলত হোসেন মোল্লাকে পরে রাজাকাররা ধরে ফেলে। আহত দৌলত হোসেনকে রাজাকাররা বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করে। রুহুল আমিনকেও একই ভাগ্য বরণ করতে হয়। ভারতের হলদিয়া নৌবন্দর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল মুক্তিবাহিনীর দুটি জাহাজ ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’। পলাশ জাহাজে ছিলেন মো. দৌলত হোসেন মোল্লা। তিনি ছিলেন জাহাজের ক্রুম্যান। তাঁদের লক্ষ্য, খুলনায় পাকিস্তানি নৌঘাঁটি দখল করা। মুক্তিবাহিনীর দুটি জাহাজের সঙ্গে আছে মিত্রবাহিনীরও একটি জাহাজ। খুলনার রূপসা নদীতে শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি আসামাত্র ঘটে সেই আকস্মিক বিপর্যয়। এ সময় আকাশ থেকে তিনটি জঙ্গি বিমান জাহাজগুলো লক্ষ্য করে বোমা বর্ষণ করতে থাকে। প্রথম ধাক্কাতেই বিধ্বস্ত হয় পদ্মা। পলাশের ইঞ্জিনরুমে আগুন ধরে যায়। একটু পর পলাশও ডুবে যায় ডেকে শহীদ নৌমুক্তিযোদ্ধাদের লাশ পড়ে ছিল। সে সময়ে গুরুতর আহত মো. দৌলত হোসেন মোল্লা অনেক কষ্টে পানিতে ঝাঁপ দেন। https://bn.wikipedia.org/s/9fte উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে