শহীদ মো. জামালউদ্দীন

Posted by Md. AL AMIN
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

নেত্রকোনা জেলার অন্তর্গত বিরিশিরি ও কলমাকান্দা এলাকা দুর্গাপুর থানা থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে। জামালউদ্দীন ও তাঁর সহযোদ্ধারা গুপ্তচরের মাধ্যমে খবর পান, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর একটি দল বিরিশিরি থেকে গোলাবারুদ ও খাদ্যসামগ্রী নিয়ে কলমাকান্দা থানায় যাবে। জামালউদ্দীনদের দলনেতা নাজমুল হক সিদ্ধান্ত নিলেন পাকিস্তানিদের অ্যামবুশ করার। ১৯৭১ সালে যানবাহন চলার জন্য কোনো পাকা রাস্তা সেখানে ছিল না। সোমেশ্বরী নদী পার হয়ে নাজিরপুর গ্রামের ভেতর দিয়ে একটি গ্রামীণ পথ ধরে পাকিস্তানিদের যেতে হবে। নাজিরপুর দুর্গম এলাকা। জঙ্গল ও ঝোপঝাড়ে পরিপূর্ণ। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মুক্তিবাহিনীর তিনটি দল রওনা হলো নাজিরপুরে। একটি দলের নেতৃত্বে ইপিআরের আবদুল গনি। তাঁর দলে ছিলেন ২০ জন মুক্তিযোদ্ধা। দ্বিতীয় দলের নেতৃত্বে পুলিশের রহমতউল্লাহ। তাঁর দলে ছিলেন ৩০ জন। তৃতীয় দলের নেতৃত্বে ছিলেন নাজমুল হক। তাঁর দলে জামালউদ্দীনসহ ৩০ জন। সিদ্ধান্ত হলো, তাঁরা নাজিরপুরে অবস্থান নেবেন তিনটি পৃথক স্থানে। প্রথম দল নাজিরপুর বাজারের পশ্চিম পাশে। দ্বিতীয় দল পূর্ব দিকে গজারমারী গ্রামে। আর দুই দলের মধ্যবর্তী স্থানে ভবানীপুর কাচারির সামনে অবস্থান নেবেন জামালউদ্দীনরা। এক অবস্থান থেকে আরেক অবস্থান ছিল বেশ দূরে। যোগাযোগের জন্য তাঁদের কাছে কোনো ওয়্যারলেসও ছিল না। ২৫ জুলাই রাতের মধ্যেই তাঁরা নির্ধারিত স্থানে অবস্থান নিলেন। জঙ্গলের ভেতর কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করার পর পাকিস্তানি সেনাদের কোনো সন্ধান না পেয়ে আবদুল গনির দল কোনো খবর না দিয়েই ফিরে যান নিজেদের ক্যাম্পে। রহমতউল্লাহর দলের সামনে দিয়ে খাদ্যসামগ্রী নিয়ে যাচ্ছিল একদল রাজাকার। তাদের বেশির ভাগকে রহমতউল্লাহর দল প্রায় বিনাযুদ্ধে আটক করে। এরপর তিনি তাঁর দল নিয়ে কিছুটা অবস্থান পরিবর্তন করলেন। এর মধ্যে পালিয়ে যাওয়া রাজাকাররা পাকিস্তানিদের কাছে মুক্তিবাহিনীর অবস্থানের কথা জানিয়ে দেয়। ২৬ জুলাই সকালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দল চারদিক থেকে গোলাগুলি করতে করতে সেখানে এগিয়ে আসে । এতে জামালউদ্দীনের দলনেতা বিভ্রান্ত হয়ে পড়লেন। পূর্ব ও পশ্চিম দিক থেকে তাঁদের দিকে গুলি হচ্ছিল। সেদিকে মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থানে থাকার কথা। যখন বুঝতে পারেন তাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই পাকিস্তানি সেনারা ক্রলিং করে মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরক্ষা অবস্থানে ঢুকে পড়ল। তারা সংখ্যায় অনেক বেশি ছিল। জামালউদ্দীন ছিলেন এলএমজি ম্যান। তিনি তাঁর এলএমজি দিয়ে পাকিস্তানিদের প্রতিরোধ করতে থাকলেন। যুদ্ধ চলতে থাকল। জামালউদ্দীনের সাহস ও রণকৌশলে মুক্তিযোদ্ধারা প্রাথমিক বিপর্যয় কাটিয়ে ওঠেন। কিন্তু এরপর ঘটে আরেক বিপর্যয়। পাকিস্তানিরা জামালউদ্দীনের এলএমজি অবস্থান চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়। তারা চারদিক থেকে তাঁর ওপর গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন তিনি। এরপর যুদ্ধের গতি পাল্টে নিয়ন্ত্রণ চলে যায় পাকিস্তানিদের হাতে। মুক্তিযোদ্ধারা একের পর এক শহীদ বা আহত হতে থাকেন। শহীদ হন আরও ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা। এ অবস্থায় বাকি মুক্তিযোদ্ধারা কোনো রকমে আত্মরক্ষা করে ক্যাম্পে ফিরে যান। https://bn.wikipedia.org/s/a02j উইকিপিডিয়া, মুক্ত বিশ্বকোষ থেকে