৭ মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্যের স্বীকৃতি

Posted by ????? ??? ??????
Feb. 19, 2019, 4:44 p.m.

১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় সোহরাওয়ার্দী উদ্যোনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণ দেশের প্রতিটি মানুষকে আলোড়িত করেছিল। আর সেই ভাষণই পরবর্তীতে মুক্তিযুদ্ধের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করেছে। জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো প্যারিসে অনুষ্ঠিত এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে ৩০ অক্টোবর ২০১৭ তারিখ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব ঐতিহ্য দলিল’ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তা সংস্থাটির ‘মেমোরি অব দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে’ অন্তর্ভুক্ত করেছে। ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণ পুরো মুক্তিযুদ্ধকাল সময়ে মানুষকে উজ্জীবিত রেখেছে। প্রিয় নেতা সুদূর পাকিস্তান কারাগারে। বেঁচে আছেন কিনা তাও জানা নেই। কিন্তু স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত ঐ অমর ভাষণ জীবন-মরণের কঠিন দুঃসময়ে এক সঞ্জিবনী সুধার মত বিপন্ন মানুষকে সজিব রেখেছে। ‘বজ্রকণ্ঠ’–স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন প্রচারিত এই অনুষ্ঠানটি শোনার জন্য গ্রাম ও শহরের মানুষ উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করেছে। ‘বঙ্গবন্ধু’ নামটি হয়ে গিয়েছিল একটি রণহুঙ্কার। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে ঐ নামেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে। আর ছিল ‘জয় বাংলা’। বঙ্গবন্ধুর মুখ নিঃসৃত ‘জয় বাংলা’ ছিল মুক্তিযোদ্ধাদের রণধ্বনি। ঐ ধ্বনি দিয়ে মুক্তিযোদ্ধারা চার্জ করেছে পাকিস্তানী সৈন্যদের। মেশিনগানের গুলির মুখে এগিয়ে গেছে, প্রবেশ করেছে শত্রুর বাংকারে। বুকের গভীরে ‘বঙ্গবন্ধু’ আর মুখে ‘জয় বাংলা’–এইতো ছিল বাঙালির মূল অস্ত্র। এই দু’টো শব্দ তখন আর কোন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়, তা হয়ে গিয়েছিল স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বপ্নে বিভোর ঘোর লাগা এক জাতির – গোটা বাঙালি জাতির সবচেয়ে প্রিয় শব্দ। তারপর মহাবিজয় এসেছে। ১৯৭১-এর ১৬ই ডিসেম্বরে। ৩০ লক্ষ মানুষের আত্মদান, চার লক্ষাধিক মা-বোনের ধর্ষিত হওয়া, প্রায় ১ কোটি মানুষের বাস্তুভিটা ত্যাগ, সম্পদের অপূরণীয় ক্ষয়ক্ষতি – এসবের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীন বাংলাদেশ। ৭ই মার্চের বঙ্গবন্ধুর ভাষণের অমর বাণী “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রাম”- তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অর্থাৎ মাতৃভূমির স্বাধীনতা অর্জিত হলো।কি ছিলো ৭ই মার্চের ভাষণে? ৪৫ বছর আগে ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চ এসেছিল এক ধারাবাহিক রাজনৈতিক আন্দোলনের পটভূমিতে। সেদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণে শেখ মুজিব বলেছিলেন ''এবারের সংগ্রাম, মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম"। ওই ভাষণে তিনি বলেছিলেন, " ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোলো। তোমাদের যার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকো"। অনেকেই বিশ্বাস করেন এই বক্তব্যের মাধ্যমে শেখ মুজিবুর রহমান একটা গেরিলা মুক্তিযুদ্ধের দিক নির্দেশনা দিয়েছিলেন। জনসভায় ছিলেন এমন অনেকে বলেছেন, লাঠি, ফেস্টুন হাতে লাখ লাখ মানুষ উত্তপ্ত শ্লোগানে মুখরিত থাকলেও শেখ মুজিবের ভাষণের সময় সেখানে ছিল পিনপতন নিরবতা। ভাষণ শেষে আবার স্বাধীনতার পক্ষে শ্লোগান মুখর হয়ে উঠেছিল ঢাকার রাস্তাগুলো। ছবি ও তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট